GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / আন্তর্জাতিক / অভিযোগের মুখে গ্রিসে মার্কিন রাষ্ট্রদূত, পদত্যাগের নির্দেশ হোয়াইট হাউসের

অভিযোগের মুখে গ্রিসে মার্কিন রাষ্ট্রদূত, পদত্যাগের নির্দেশ হোয়াইট হাউসের

গ্রিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বার্লি গিলফয়েলকে পদত্যাগ করতে বলেছে হোয়াইট হাউস। তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ, অর্থ চাওয়া এবং দামি উপহার গ্রহণসহ একাধিক অভিযোগ ওঠার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

হোয়াইট হাউসের নতুন প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়া তার প্রথম সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, প্রশাসন গিলফয়েলকে পদত্যাগ করতে বলেছে। একই সঙ্গে তিনি গিলফয়েলকে প্রশাসনের মূল্যবান সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে তার ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানান।

পরে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার গিলফয়েলের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র পাওয়া গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, গিলফয়েলকে সরিয়ে দেওয়ার পেছনে তার বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো ভূমিকা রেখেছে। তবে এ বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে গিলফয়েলের সঙ্গে কথা বলেননি বলে জানান।

অভিযোগ অস্বীকার গিলফয়েলের

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে গিলফয়েল স্বীকার করেন, তার দায়িত্ব পালনের সময় শেষ হয়ে আসতে পারে। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, নিজের নাম, সুনাম ও সততা রক্ষায় তিনি জোরালোভাবে লড়বেন।

গিলফয়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ চূড়ান্ত হওয়ার আগে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ করে দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ চেয়েছিলেন। এ ছাড়া দামি উপহার গ্রহণ এবং গ্রিসের একটি নির্মাণপ্রতিষ্ঠানের লবিস্টকে সরকারি বৈঠকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

তবে অর্থ চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তার আইনজীবীরা। তাদের দাবি, গিলফয়েলের ভ্রমণ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো বিভ্রান্তিকর। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় সরকারের উপহার গ্রহণ ও তথ্য প্রকাশসংক্রান্ত নিয়ম তিনি মেনে চলেছেন বলেও দাবি করেন তারা।

এক লাখ ডলারের বিল নিয়ে অভিযোগ

সাবেক ট্রাম্প-সমর্থক ও দাতা এরিক ডিটার্সের অভিযোগ, সিনেটে গিলফয়েলের নিয়োগ নিশ্চিত হওয়ার কয়েক দিন আগে তিনি তাকে বার্তা পাঠিয়ে আমেরিকান এক্সপ্রেসের এক লাখ ডলারের বিল পরিশোধে অর্থ চেয়েছিলেন। বিনিময়ে ট্রাম্প প্রশাসনে বিশ্বস্ত সহযোগী হয়ে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন ডিটার্স।

ডিটার্স সিএনএনকে বলেন, তার কাছে বিষয়টি অর্থের বিনিময়ে সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব বলে মনে হয়েছিল। তবে তিনি কোনো অর্থ দেননি বলে জানান।

অন্যদিকে, গিলফয়েলের আইনজীবীরা অভিযোগটিকে মিথ্যা বলেছেন। তাদের বক্তব্য, ডিটার্সের কাছে গিলফয়েলের বক্তৃতা ও পরামর্শক হিসেবে কাজ করার পারিশ্রমিক বকেয়া ছিল। সেই পাওনা আদায়ের চেষ্টা করছিলেন তিনি।

এক্সে দেওয়া পোস্টে গিলফয়েলও অভিযোগগুলোকে মিথ্যা বলে উল্লেখ করেন। কয়েক দশকের জনসেবার জীবনকে মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার করতে দেবেন না বলে জানান তিনি।

ট্রাম্পের ছেলের সঙ্গে ছিল বাগ্‌দান

কিম্বার্লি গিলফয়েলের সঙ্গে ট্রাম্পের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের চার বছর বাগ্‌দান ছিল। পরে তাদের সম্পর্কের অবসান ঘটে।

এরপর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গ্রিসে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নেন গিলফয়েল। মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, গিলফয়েল তার পরিবারের সদস্য ছিলেন না; তিনি অনেক আগে তার ছেলের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন।

সূত্র: যুগান্তর প্রতিবেদন

Social Icons