GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / আন্তর্জাতিক / ভারত-চীনের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক স্থগিত করলেন ট্রাম্প

ভারত-চীনের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক স্থগিত করলেন ট্রাম্প

রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারত ও চীনের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত মার্কিন শুল্ক আরোপের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়া-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক কার্যকরের সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখে নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন তিনি। এতে ভারত ও চীনসহ কয়েকটি দেশ আপাতত সম্ভাব্য শুল্কের চাপ থেকে রেহাই পেল।

জাতীয় স্বার্থে স্থগিতাদেশ

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে প্রকাশিত নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় রাশিয়া-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা, বিধিনিষেধ ও শুল্কের প্রয়োগ স্থগিত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কংগ্রেসকে প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্রও দিয়েছেন বলে আদেশে উল্লেখ করেন তিনি।

তবে এই স্থগিতাদেশকে স্থায়ী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞার প্রয়োগ আপাতত বন্ধ থাকছে। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বিবেচনায় এগুলো আবার কার্যকর করার সুযোগ থাকতে পারে।

কোন আইনে শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ছিল?

শুল্ক আরোপের বিষয়টি ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট’ নামের একটি আইনের সঙ্গে সম্পর্কিত। আইনটির লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অর্থনৈতিক সক্ষমতা কমিয়ে আনা এবং মস্কোর সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা।

আইনটিতে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের বড় ক্রেতা কয়েকটি দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের বিধান রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে ভারত ও চীনের পাশাপাশি স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও আজারবাইজানের নামও উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া রাশিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা জ্বালানি পণ্যের ওপর উচ্চ হারে শুল্ক আরোপের বিধানও ছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

রাশিয়ার তেল কেনা দেশগুলো কেন ঝুঁকিতে?

রাশিয়ার জ্বালানি খাত থেকে আয় কমানো এবং ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোর অর্থায়ন সীমিত করাই এ ধরনের ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য। রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের মাধ্যমে তাদের তেল ও গ্যাস আমদানির নীতিতে পরিবর্তন আনতে চাপ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

তবে ট্রাম্পের সর্বশেষ সিদ্ধান্তে প্রস্তাবিত শুল্কের প্রয়োগ আপাতত স্থগিত থাকছে। ফলে ভারত ও চীনের ওপর এর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা কমেছে।

স্থগিতাদেশ স্থায়ী নয়

ট্রাম্পের আদেশে শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হলেও ভবিষ্যতে সেগুলো আবার কার্যকর হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত নয়। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং রাশিয়া-সংক্রান্ত নীতির ওপর নির্ভর করবে।

সূত্র: এনডিটিভি ও যুগান্তর।

Social Icons