GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জাতীয় / চীনের সহায়তায় ৮ কারিগরি প্রতিষ্ঠান আধুনিকায়ন, হবে যৌথ বিশ্ববিদ্যালয়

চীনের সহায়তায় ৮ কারিগরি প্রতিষ্ঠান আধুনিকায়ন, হবে যৌথ বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষার মান উন্নয়ন ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের আটটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আধুনিকায়ন, যৌথ কারিগরি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন শিক্ষাক্রম চালুর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট কনফারেন্স ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। একই অনুষ্ঠানে প্রকাশ করা হয় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার বৈশ্বিক মানদণ্ডবিষয়ক ‘বেইজিং এগ্রিমেন্ট’।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ-চীন সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর

সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং চীনের শিক্ষা উপমন্ত্রী ওয়াং গুয়াংইয়ান সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

সম্মেলনে ৪০টিরও বেশি দেশের শিক্ষামন্ত্রী এবং শতাধিক দেশের সরকারি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। এ সময় কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতের উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন দলিলও প্রকাশ করা হয়।

বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সমঝোতা স্মারক ও বেইজিং এগ্রিমেন্ট দেশের দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় গতি আনতে সহায়তা করবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুসরণ ও দুই দেশের যৌথ উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশি তরুণদের জন্য আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

কারিগরি শিক্ষায় ৬টি অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগ

সমঝোতা স্মারকের আওতায় বাংলাদেশ ও চীন ছয়টি প্রধান উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করবে।

১. আটটি কারিগরি প্রতিষ্ঠান আধুনিকায়ন: চীনের কারিগরি শিক্ষাক্রম, শিক্ষাদান পদ্ধতি ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ মডেল অনুসরণ করে বাংলাদেশের আটটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নত করা হবে।

২. যৌথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা: দুই দেশের উদ্যোগে বাংলাদেশে একটি নতুন কারিগরি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে।

৩. যৌথ শিক্ষাক্রম চালু: কারিগরি শিক্ষার্থীদের জন্য ২+২ ও ৩+১ মডেলের যৌথ একাডেমিক কর্মসূচি চালু করা হবে।

৪. আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা: কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উন্নত প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম ও স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

৫. কর্মসংস্থানের সুযোগ: চীনের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশি কারিগরি শিক্ষার্থীদের সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

৬. বৃত্তি সম্প্রসারণ: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনা বৃত্তির সুযোগ আরও বাড়ানো হবে।

কারিগরি শিক্ষার বৈশ্বিক মানদণ্ডে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ

সম্মেলনে ‘ফ্রেমওয়ার্ক অব ওয়ার্ল্ড ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন স্ট্যান্ডার্ডস’ বা ‘বেইজিং এগ্রিমেন্ট’ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। এর লক্ষ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের মান উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানো।

সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, চীনের গুয়াংডং, জিয়াংসি এবং অন্যান্য প্রদেশের বিভিন্ন কারিগরি ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহযোগিতার বাস্তবায়নকারী অংশীদার হিসেবে কাজ করবে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষায় ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের প্রস্তুতি আরও জোরদার হবে।

সূত্র: বাসস ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।

Social Icons