GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জাতীয় / এনআইডিতে নাম, বয়স ও ঠিকানা সংশোধনে যেসব কাগজপত্র লাগবে

এনআইডিতে নাম, বয়স ও ঠিকানা সংশোধনে যেসব কাগজপত্র লাগবে

জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নিজের নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম কিংবা ঠিকানায় ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। তবে কী ধরনের ভুল সংশোধন করতে হবে, তার ওপর নির্ভর করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ধরন। তাই আবেদন করার আগে ভুলের পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র প্রস্তুত রাখা জরুরি।

নাম, জন্মতারিখ ও ঠিকানা সংশোধনের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত সনদ, জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, বাবা-মায়ের এনআইডি কিংবা ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে বিভিন্ন নথি চাওয়া হতে পারে।

নাম সংশোধনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

এনআইডিতে নিজের নামের বানান বা আংশিক ভুল সংশোধনের জন্য সাধারণত শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ এবং নামের সঠিকতা প্রমাণ করে—এমন নথি জমা দিতে হতে পারে।

প্রয়োজন অনুযায়ী পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, বিবাহিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কাবিননামা কিংবা স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডির অনুলিপিও সহায়ক নথি হিসেবে চাওয়া হতে পারে।

তবে সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রমাণপত্র প্রয়োজন হতে পারে। এ ধরনের আবেদনে এসএসসি বা সমমানের সনদের সত্যায়িত অনুলিপি, ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্পাদিত হলফনামা এবং জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞাপনের কপি চাওয়া হতে পারে। ক্ষেত্রবিশেষে মূল কাগজপত্র প্রদর্শন ও ব্যক্তিগত শুনানিতেও অংশ নিতে হতে পারে।

বাবা-মায়ের নাম সংশোধনে যেসব নথি লাগতে পারে

এনআইডিতে বাবা বা মায়ের নামের বানান, পদবি কিংবা পুরো নাম সংশোধনের জন্য শিক্ষাগত সনদ, জন্মনিবন্ধন সনদ এবং বাবা-মায়ের এনআইডির অনুলিপি প্রয়োজন হতে পারে।

নাম বড় ধরনের পরিবর্তন করতে হলে এসএসসি, এইচএসসি বা সমমানের সনদ কিংবা রেজিস্ট্রেশন কার্ডসহ অতিরিক্ত প্রমাণপত্র চাওয়া হতে পারে। বাবা-মায়ের নামের সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য তাঁদের এনআইডির সত্যায়িত অনুলিপিও প্রয়োজন হতে পারে।

বাবা-মা মারা গেলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভাই-বোনদের এনআইডির অনুলিপি কিংবা পারিবারিক সম্পর্কের সমর্থনে অন্যান্য নথি চাওয়া হতে পারে।

জন্মতারিখ সংশোধনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং জমা দেওয়া নথির ওপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নির্ভর করে।

এসএসসি বা সমমান পাস ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে: সাধারণত সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার সনদের সত্যায়িত অনুলিপি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়। বয়সের ব্যবধান অস্বাভাবিক মনে হলে মূল সনদ প্রদর্শন বা ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

এসএসসি বা সমমানের নিচে শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে: এনআইডি ইস্যুর আগের তারিখের সার্ভিস বুক, এমপিওর কপি, জন্মনিবন্ধন সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট বা নিকাহনামার মতো নথি চাওয়া হতে পারে। ক্ষেত্রবিশেষে সিভিল সার্জনের বয়স নির্ধারণসংক্রান্ত প্রতিবেদনসহ অতিরিক্ত প্রমাণপত্রও প্রয়োজন হতে পারে।

আবেদন করার আগে জন্মতারিখের সঠিকতা প্রমাণ করে—এমন নথিগুলো মিলিয়ে নেওয়া ভালো।

ঠিকানা সংশোধনে যেসব কাগজপত্র লাগবে

এনআইডিতে স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানা সংশোধনের জন্য ঠিকানার পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ জমা দিতে হতে পারে। সম্ভাব্য নথিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ
  • বিদ্যুৎ, গ্যাস বা টেলিফোন বিল
  • পৌরকর বা চৌকিদারি কর পরিশোধের রসিদ
  • সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের প্রত্যয়নপত্র
  • প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবারের কোনো সদস্যের এনআইডির অনুলিপি

ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঠিকানা সংশোধন করতে হলে নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে আবেদন করতে হয়। অন্যদিকে, ভোটার এলাকা অপরিবর্তিত রেখে ঠিকানার বানান বা নম্বর সংশোধনের জন্যও আবেদন করা যেতে পারে।

কোন ধরনের পরিবর্তন করা হচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত নথি চাইতে পারে।

আবেদন করার আগে যা মনে রাখবেন

এনআইডি সংশোধনের ক্ষেত্রে ভুলের ধরন, পরিবর্তনের পরিমাণ এবং জমা দেওয়া প্রমাণপত্রের ভিত্তিতে আবেদন যাচাই করা হয়। বড় ধরনের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত শুনানি বা সরেজমিন তদন্তের প্রয়োজন হতে পারে।

তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিস অথবা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা নিশ্চিত করে নিন। এতে অসম্পূর্ণ নথির কারণে আবেদন প্রক্রিয়ায় জটিলতা কমতে পারে।

সূত্র: যুগান্তর প্রতিবেদন।

Social Icons