ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক নির্বাচনি সমাবেশে তিনি ফ্রান্সকে বিপ্লবের জন্য উপযুক্ত জায়গা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘চলুন, ফ্রান্সে গিয়ে বিপ্লবে যোগ দিই।’
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সে শুরু হওয়া বিক্ষোভের একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান আন্দোলনকারীদের একটি অংশ। বিভিন্ন স্থানে দোকানপাট ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
ফ্রান্সের পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য
ফ্রান্সের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে কৌতুকের সুরে ট্রাম্প বলেন, দেশটি বিপ্লবের জন্য যেন আদর্শ জায়গা। তাঁর মন্তব্যে ফ্রান্সে কোনো দাঙ্গা বা বিপ্লব নেই—এমন ব্যঙ্গাত্মক কথাও উঠে আসে।
ফ্রান্সে বিক্ষোভ ও সহিংসতার খবরের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই বক্তব্য সামনে আসে। তাঁর মন্তব্যের মাধ্যমে দেশটির পরিস্থিতি নিয়ে বিদ্রূপ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিবাসন নিয়ে মন্তব্য জেডি ভ্যান্সের
ফ্রান্সের সহিংসতা নিয়ে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও। তিনি এ পরিস্থিতির জন্য অভিবাসন ও অভিবাসীদের সমাজের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রশ্নকে সামনে এনেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ভ্যান্সের অভিযোগ, বৈচিত্র্য ও সহমর্মিতার কথা বলে পশ্চিমা উদারপন্থিরা ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশে তৃতীয় বিশ্বের মানুষকে নিয়ে এসেছেন। কিন্তু সমাজের সঙ্গে তাঁদের একীভূত হওয়া ও সাংস্কৃতিক সামঞ্জস্যের মতো বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।
ভ্যান্স আরও লেখেন, সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে আগে সতর্ক করা হলেও তা গুরুত্ব পায়নি। ফ্রান্সের ঐতিহাসিক স্থাপনা ও মানুষের নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে তিনি চলমান সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনাও করেন তিনি।
তবে ফ্রান্সের বিক্ষোভের কারণ ও সহিংসতার সঙ্গে অভিবাসনের সম্পর্ক নিয়ে ভ্যান্সের বক্তব্য তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান। এ বিষয়ে সামগ্রিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কারণও বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগ
গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকায় বড় ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে আয়োজিত এসব কর্মসূচির কিছু অংশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।
প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ও আতশবাজি ছুড়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বিক্ষোভে অংশ নেন প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। অন্যদিকে, শ্রমিক সংগঠন সিজিটি দাবি করেছে, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ।
প্যারিসের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও লুটপাট
বিক্ষোভের একপর্যায়ে মুখোশ পরা একদল তরুণ বিভিন্ন স্থানে পার্ক করা গাড়িতে আগুন দেয় এবং দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্যারিসের মেয়র এমানুয়েল গ্রেগোয়ার শহরের বিভিন্ন সড়কের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সহিংসতার কারণে জনজীবন ও নগর অবকাঠামোর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
বিক্ষোভের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভের সঙ্গে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা যুক্ত হওয়ায় ফ্রান্সের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রাম্প ও ভ্যান্সের মন্তব্যের মাধ্যমে বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক আলোচনাতেও উঠে এসেছে।
তবে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিপুলসংখ্যক মানুষের উদ্দেশ্য বা অবস্থানকে সহিংসতার কয়েকটি ঘটনার সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক হবে না। বিক্ষোভের কারণ, পুলিশের ভূমিকা, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং অভিবাসনসংক্রান্ত দাবিগুলো আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি, যুগান্তর আন্তর্জাতিক ডেস্ক।









