GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / সারাদেশ / চাঁদা না দিলে জমিতে ঘর তোলা যাবে না, অর্ধেক জমি ছাড়ারও অভিযোগ

চাঁদা না দিলে জমিতে ঘর তোলা যাবে না, অর্ধেক জমি ছাড়ারও অভিযোগ

কক্সবাজারের মহেশখালীতে জমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণ করতে হলে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী মাহমুদুল্লাহ ও তাঁর পরিবারের দাবি, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাঁদের ওপর একাধিকবার হামলা চালানো হয়েছে। এমনকি জমির বিরোধ মেটানোর বৈঠকে বাজারমূল্যের অর্ধেক টাকা অথবা জমির অর্ধেক ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ করেন মাহমুদুল্লাহ। মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ফকিরাঘোনা এলাকার মৌলভী আনছুর আলী পাড়ায় এসব ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি।

অভিযোগে স্থানীয় ছাবের মিয়া, মোস্তাক মিয়া ও জসিম উদ্দিনসহ কয়েকজনের নাম এসেছে। এ ছাড়া জেলা যুবদলের সহসভাপতি মকছুদু আলম নিরু এবং তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী নেজাম উদ্দিনের নামও উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগী। তবে চাঁদাবাজি বা অভিযুক্তদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিরু।

পাঁচ লাখ টাকা না দিলে ঘর নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ

মাহমুদুল্লাহর দাবি, বিরোধপূর্ণ জমিটি তাঁদের কেনা সম্পত্তি। খতিয়ানেও জমির মালিকানা তাঁদের নামে রয়েছে বলে জানান তিনি। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটি সেখানে বসবাস করছে এবং গাছপালা লাগিয়ে জমি ভোগদখল করে আসছে।

তবে ছাবের মিয়াসহ কয়েকজন তাঁদের জমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন মাহমুদুল্লাহ। এ নিয়ে একাধিকবার মহেশখালী থানায় অভিযোগও করেছেন তিনি।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য, থানায় পুলিশের উপস্থিতিতে বিরোধ মেটানোর বৈঠক হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। বরং জমিতে ঘর তুলতে হলে পাঁচ লাখ টাকা দিতে বলা হয়। টাকা না দিলে সেখানে কোনোভাবেই ঘর নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।

মাহমুদুল্লাহর দাবি, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর তাঁদের পরিবারের ওপর তিন দফায় হামলা চালানো হয়।

হামলায় আহত দুই ভাই, ভাঙচুরের অভিযোগ

মাহমুদুল্লাহর অভিযোগ, সর্বশেষ গত ১৫ অক্টোবর বিকেল ৫টার দিকে বন্দুক, দা ও কিরিচ নিয়ে তাঁদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এতে তাঁর বাম হাতের কবজি ভেঙে যায়। তাঁর ৪৮ বছর বয়সী ছোট ভাই রহমত উল্লাহর মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তাঁর কানের পর্দা ফেটে গেছে বলেও দাবি করেছে পরিবারটি।

এ ছাড়া বাড়িঘর ও বেড়া ভাঙচুর করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।

পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, আহতদের কয়েকজন গুরুতর অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জমির অর্ধেক মূল্য অথবা অর্ধেক জমি দেওয়ার প্রস্তাব?

মাহমুদুল্লাহর অভিযোগ, জমির বিরোধ মেটানোর কথা বলে জেলা যুবদলের সহসভাপতি মকছুদু আলম নিরুর ব্যক্তিগত সহকারী নেজাম উদ্দিন পুলিশের উপস্থিতিতে একটি প্রস্তাব দেন। এতে জমির বাজারমূল্যের অর্ধেক টাকা অথবা জমির অর্ধেক ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

এ কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে বলে মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে নেজাম উদ্দিন বলেন, ছাবের মিয়াসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁকে বিরোধ মেটানোর জন্য টাকার কথা বলতে বলেছিলেন। তাঁদের পক্ষ থেকে তিনি কথাটি বলেছেন বলে দাবি করেন নেজাম। তাঁর ভাষ্য, নিজের কোনো দাবি-দাওয়া ছিল না।

অন্যদিকে, মকছুদু আলম নিরু চাঁদাবাজি বা অভিযুক্তদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁর কাছে এসেছিলেন এবং তিনি বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করেছেন।

জাল স্ট্যাম্প তৈরি করে জমি নিয়ে বিরোধের অভিযোগ

জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টির পেছনে জাল স্ট্যাম্প ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কয়েকজনের অভিযোগ, ছাবের মিয়া ও তাঁর লোকজন জাল স্ট্যাম্প তৈরি করে জমির মালিকানা দাবি করছেন এবং এর মাধ্যমে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করছেন।

মাহমুদুল্লাহর কাছে জমির মালিকানা দাবি করতে যে স্ট্যাম্প দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ, তাতে আমান উল্লাহ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম রয়েছে।

এ বিষয়ে আমান উল্লাহ বলেন, তাঁর বাবা আবদু রশিদসহ সংশ্লিষ্ট মালিকদের কাছ থেকে জমি কেনা হয়েছে। তাই ছাবের মিয়াদের ওই স্ট্যাম্প দেওয়ার কোনো কারণ নেই বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, স্ট্যাম্পটি জালভাবে তৈরি করা হয়েছে।

বিষয়টি প্রমাণের জন্য ছাবের মিয়াদের সঙ্গে বসতে চাইলেও তাঁরা সালিশে উপস্থিত হন না বলে অভিযোগ করেন আমান উল্লাহ।

অভিযুক্ত ছাবের মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মূল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগেও একই ধরনের একটি ঘটনায় সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে আর টাকা দাবি করবেন না বলে প্রতিবেদককে আশ্বাস দিয়েছিলেন ছাবের। এ কথোপকথনের একটি রেকর্ডও প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

কী বলছে মহেশখালী থানা পুলিশ?

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুস সুলতান বলেন, সালিশ বৈঠকে ছাবেরের পক্ষ থেকে বিরোধপূর্ণ জমির বিষয়ে একটি স্ট্যাম্প দেখানো হয়েছিল। অন্যদিকে, মাহমুদুল্লাহর কাছে খতিয়ানভুক্ত জমির মালিকানার রেকর্ড রয়েছে।

ওসি জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পরস্পরের আত্মীয় হওয়ায় বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। এরপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পুলিশ পাঠিয়ে আহতদের তাৎক্ষণিক উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা এখনো থানায় এজাহার দেননি বলে জানিয়েছেন ওসি আব্দুস সুলতান। এজাহার পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

জমির মালিকানা, কথিত চাঁদা দাবি, হামলা ও জাল স্ট্যাম্পের অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্তের ফল এখনো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে আইনগত প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।

Social Icons