GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জাতীয় / ১ নভেম্বর থেকে খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন-লাইসেন্স বাধ্যতামূলক

১ নভেম্বর থেকে খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন-লাইসেন্স বাধ্যতামূলক

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে দেশের নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। আগামী ১ নভেম্বর থেকে নতুন এই বিধান কার্যকর হবে।

গত ১৬ জুলাই সরকারি গেজেটে ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ প্রকাশ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট খাদ্য ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রযোজ্য নিবন্ধন বা লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

রেস্তোরাঁ থেকে ফুটপাতের দোকান—সবাইকে মানতে হবে নিয়ম

নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এবং নতুন প্রবিধান অনুযায়ী, নির্ধারিত খাদ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক লাইসেন্স, প্রিমিসেস লাইসেন্স, উৎপাদিত ও আমদানিকৃত পণ্যের লাইসেন্স এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত পণ্যের নিবন্ধনের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও খাদ্য স্থাপনার জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নতুন নিয়মের আওতায় রেস্তোরাঁ, বেকারি, ফলের রসের দোকান, পেস্ট্রি শপ ও ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধন নিতে হবে। প্যাকেটজাত খাবার উৎপাদনকারী, মিষ্টির দোকান, দুগ্ধজাত পণ্য প্রস্তুতকারী এবং নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য আমদানিকারকদেরও এই বিধান অনুসরণ করতে হবে।

এমনকি ফুটপাত বা রাস্তার পাশে পিঠা, পুরি, পেঁয়াজুসহ বিভিন্ন খাবার বিক্রি করেন—এমন ব্যবসায়ীদেরও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নিবন্ধন নিতে হবে।

কোন ধরনের খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন লাগবে?

প্রবিধানমালায় খাদ্য ব্যবসার বিভিন্ন শ্রেণি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পাইকারি মুদি খাদ্য ব্যবসা, কাঁচা ও তাজা খাদ্য আমদানি, খাদ্য সংরক্ষণাগার ও কোল্ড স্টোরেজ, ভোজ্যতেল ও ভোজ্য লবণ উৎপাদন এবং বিভিন্ন ধরনের খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, আমদানি, রপ্তানি ও বিপণন।

এ ছাড়া পুষ্টিসমৃদ্ধ বা ফোর্টিফায়েড খাদ্য, জৈব খাদ্য, প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্য, অভিনব খাদ্য, বিশেষ খাদ্য এবং খাদ্য সংযোজন দ্রব্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নির্ধারিত ব্যবসাও বিধিমালার আওতায় রয়েছে।

তবে সব প্রতিষ্ঠানের জন্য একই ধরনের অনুমোদন প্রযোজ্য নয়। ব্যবসার ধরন ও পণ্যের শ্রেণি অনুযায়ী নিবন্ধন অথবা লাইসেন্স নিতে হবে।

বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যে লাগবে লাইসেন্স

শিশুদের ফর্মুলা দুধ এবং বয়স্ক ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত মানুষের জন্য তৈরি বিশেষ খাবারের মতো বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে লাইসেন্সের বিধান রাখা হয়েছে।

স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য, চিকিৎসাসংক্রান্ত বিশেষ পথ্য, প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্য এবং নিউট্রাসিউটিক্যালসহ নির্ধারিত পণ্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, আমদানি ও বিপণনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে।

জিনগতভাবে পরিবর্তিত খাদ্য, কিরণ-সম্পাতকৃত খাদ্য, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য এবং স্বাস্থ্য সহায়ক বা রোগের ঝুঁকি কমানোর দাবি করা পণ্যের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী অনুমোদন নিতে হবে।

আবেদন, ফি ও নিবন্ধনের মেয়াদ

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রবিধানমালার তফশিল-১০-এ নির্ধারিত ফি পরিশোধ এবং প্রযোজ্য শর্ত পূরণ করে আবেদন করতে হবে। বাধ্যতামূলক লাইসেন্সের জন্য নির্ধারিত ফরম ৬.১, ৭.১, ৮.১ ও ৯.১ এবং নিবন্ধনের জন্য ফরম ৫.১ অনুযায়ী আবেদন জমা দিতে হবে।

বিধিমালা অনুযায়ী, প্রচলিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার প্রথমবার নিবন্ধন বিনামূল্যে করা হবে। অন্যদিকে, নির্দিষ্ট বিশেষায়িত খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রিমিসেস লাইসেন্স ফি প্রতিষ্ঠানের আয়তনের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, ১০০ বর্গমিটার বা তার কম আয়তনের প্রতিষ্ঠানের জন্য ফি ১০ হাজার টাকা। ১০ হাজার বর্গমিটারের বেশি আয়তনের প্রতিষ্ঠানের নতুন লাইসেন্স ফি ৬০ হাজার টাকা।

নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর। মেয়াদ শেষ হলে তা নবায়ন করতে হবে।

লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করলে দণ্ডের বিধান

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যেসব ব্যবসার জন্য নিবন্ধন বা লাইসেন্স বাধ্যতামূলক, সেসব ক্ষেত্রে অনুমোদন ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

তাই ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নিয়ম মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের আগেই প্রস্তুতি নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে থাকতে হবে বিএফএসএ নম্বর

নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করার বিধান রাখা হয়েছে। এর ফলে ভোক্তারা পণ্যের প্যাকেট দেখে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সম্পর্কে জানতে পারবেন। পাশাপাশি কোনো অভিযোগ থাকলে নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে অভিযোগ জানানো সহজ হবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়ের মাধ্যমে নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আবেদন করা যাবে। পরে ধাপে ধাপে শতভাগ অনলাইন আবেদনব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, নতুন এই বিধিমালার মাধ্যমে খাদ্য ব্যবসার নিবন্ধন ও লাইসেন্স কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে। একই সঙ্গে খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার উদ্যোগ আরও কার্যকর হবে।

Social Icons