GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জাতীয় / তুরাগ নদী থেকে উদ্ধার তাহসিফের লাশ, আইফোনে শনাক্ত পরিচয়

তুরাগ নদী থেকে উদ্ধার তাহসিফের লাশ, আইফোনে শনাক্ত পরিচয়

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির লাশ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরখান এলাকার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সঙ্গে থাকা আইফোনের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

নৌ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন তাহসিফ। তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আইফোনের মাধ্যমে যেভাবে শনাক্ত হয় তাহসিফের পরিচয়

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে তাহসিফের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরখান থানার ডিউটি অফিসার শাহীনুর।

তিনি জানান, বুধবার সন্ধ্যায় খবর পেয়ে নৌ পুলিশ তুরাগ নদী থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করে। পরে বিষয়টি উত্তরখান থানাকে জানানো হয়।

নৌ পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে খবর আসে, উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদীতে একটি মরদেহ ভাসছে। খবর পেয়ে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন।

উদ্ধারের সময় মরদেহটির পরনে ছিল সাদা পাজামা ও কালো পাঞ্জাবি। তাঁর হাতে একটি ঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। ওই ফোনের সূত্র ধরেই পরে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তির নাম কে এম তাহসিফ সৌরি। তাঁর বাবার নাম কে এম এনায়েতুর। তিনি উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের ১৪বি ভবনে থাকতেন।

গত ২৭ অক্টোবর রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন তাহসিফ

নৌ পুলিশের বরাতে জানা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর রাত থেকেই নিখোঁজ ছিলেন বিমানবাহিনীর সাবেক এই কর্মকর্তা। পরদিন বুধবার বিকেলে তুরাগ নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নৌ পুলিশ টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পাওয়ার পর বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তাহসিফের মৃত্যু নিয়ে পুলিশের বক্তব্য

উত্তরা জোনের (দক্ষিণখান) অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার কেএইচএম এরশাদ জানান, বুধবার সন্ধ্যায় নৌ পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তখন পর্যন্ত মরদেহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি এবং এ ঘটনায় কোনো মামলাও হয়নি।

তিনি আরও জানান, ঘটনার বিস্তারিত তথ্য নৌ পুলিশের কাছ থেকে জানা যাবে।

তাহসিফের মৃত্যুর কারণ কী, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট তদন্তের তথ্য পাওয়ার পর এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় আলোচনায় এসেছিলেন তাহসিফ

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দৃশ্য ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিমানবাহিনীর দুই কর্মকর্তা আলোচনায় এসেছিলেন। তাঁদের একজন ছিলেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট রিফাত আশরাফী এবং অন্যজন ছিলেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রিফাত আশরাফী কুর্মিটোলা এয়ারবেসের অফিসার্স মেসের একটি কক্ষের জানালা দিয়ে ওই দৃশ্য ধারণ করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। অন্যদিকে, তাহসিফ নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে ভিডিওটি প্রকাশ করেছিলেন বলে জানা যায়।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর দুই কর্মকর্তাকেই বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তে কীভাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল ভিডিওর উৎস?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিডিওটির ক্যামেরার কোণ ও ঘোরানোর ধরন বিশ্লেষণ করে সেটি কোথা থেকে ধারণ করা হয়েছিল, তা শনাক্তের চেষ্টা করা হয়। বিমানবাহিনীর এয়ার ইন্টেলিজেন্সের বিশ্লেষণের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কক্ষটি চিহ্নিত করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

পরে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে রিফাত আশরাফী নিজের কক্ষের জানালা থেকে দৃশ্যটি ধারণ করার কথা স্বীকার করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, তাহসিফও নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি প্রকাশের কথা স্বীকার করেছিলেন বলে জানানো হয়।

শেষ কথা

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরি গত ২৭ অক্টোবর রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন বলে নৌ পুলিশের বরাতে জানা গেছে। পরদিন তুরাগ নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সঙ্গে থাকা আইফোনের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

তবে তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পরবর্তী তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: যুগান্তর প্রতিবেদন অবলম্বনে।

Social Icons