GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / রাজনীতি / ট্রাম্পের দাবি, নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যদের বেতন দেওয়ার অর্থ নেই ইরানের

ট্রাম্পের দাবি, নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যদের বেতন দেওয়ার অর্থ নেই ইরানের

ইরানের সেনা ও পুলিশ সদস্যদের বেতন দেওয়ার মতো অর্থ দেশটির সরকারের হাতে নেই বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরান আবারও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহী বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেই তার এই বক্তব্য সামনে এসেছে।

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ইরান বারবার আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করছে। দেশটি বর্তমানে বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, দেশটির সেনা ও পুলিশ সদস্যদের বেতন দেওয়ার সামর্থ্যও এখন নেই।

চলমান সামরিক অভিযানকে সাধারণ কোনো যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করতে চাননি ট্রাম্প। তার দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া পদক্ষেপ থেকে পাওয়া সুবিধা ইরানবিরোধী অভিযানের ব্যয়ের চেয়েও বেশি বলেও দাবি করেন তিনি।

আলোচনা শুরুর উদ্যোগে কাতার

ট্রাম্পের বক্তব্যের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা পুনরায় শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে কাতার।

কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার তেহরানে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আলোচনা করেছেন। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনার পথ তৈরি করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দোহায়ও আলোচনা অব্যাহত থাকার কথা রয়েছে।

এক কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, পুরো আলোচনা চলাকালে কাতার হোয়াইট হাউসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছে। সমঝোতার অগ্রগতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও আলোচনা এখনো শেষ হয়নি।

মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষকে কিছু পারস্পরিক পদক্ষেপে সম্মত করানোর চেষ্টা করছেন। এর মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরাসরি আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

আলোচনায় দুই দেশের শর্তে মতপার্থক্য

আলোচনা শুরুর শর্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এখনো মতবিরোধ রয়েছে।

এক মার্কিন কর্মকর্তার মতে, আলোচনায় ফেরার আগে ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে ছাড় দিতে হবে বলে মনে করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

অন্যদিকে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দ করা অর্থ ফেরত দেওয়া এবং পুনরায় তেল বিক্রির সুযোগ চালুর দাবি জানিয়েছে।

এ ছাড়া আগের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের জন্য জাতিসংঘের পরিদর্শকদের অনুমতি দেওয়ার বিষয়েও তেহরানকে রাজি করানোর চেষ্টা করছে কাতার। এর বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রস্তাব থাকতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনা কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সমঝোতার খবর পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র: সামা টিভি

Social Icons