GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জাতীয় / চীনা প্রতিষ্ঠানকে ডিপো নির্মাণ কাজ

চীনা প্রতিষ্ঠানকে ডিপো নির্মাণ কাজ

ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিটের লাইন-১ ডিপো নির্মাণের কাজের জন্য ঠিকাদার নির্বাচন

রাজধানীর গণপরিবহনে পাতাল মেট্রোরেলের পথ আরও এগোতে যাচ্ছে। ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের (লাইন-১) অধীনে কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পাতাল অংশের পাশাপাশি নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল ডিপো পর্যন্ত উড়াল অংশের কাজের ধারাবাহিকতায় এবার ডিপো নির্মাণের কাজও চীনের প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্তের দিকে যাচ্ছে সরকার।

ডিপো নির্মাণের কাজ পাবে সিনোহাইড্রো-এসইবিসিএল

ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিটের লাইন-১ ডিপো নির্মাণের কাজের জন্য ঠিকাদার নির্বাচন

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নির্বাচন করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ চীন প্রতিষ্ঠানের কাজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই কাজে সিনোহাইড্রো-এসইবিসিএল যৌথ উদ্যোগের প্রস্তাবই এগিয়ে আছে।

ডিপো প্যাকেজের আওতায় ওয়ার্কশপ, স্ট্যাবলিং শেড, পরিচালনা ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, কারিগরি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, সহায়ক উপকেন্দ্র, ট্র্যাকশন উপকেন্দ্রসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে বাংলাদেশ সরকার ও জাইকার যৌথ অর্থায়নে।

অনুমোদন আগে, পরে পারফরম্যান্স গ্যারান্টি

তবে প্রকল্পের ব্যয় ১০০ কোটি টাকার বেশি হওয়ায় এটি চূড়ান্ত করা যাবে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের পর। আগামী বৈঠকে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হতে পারে। মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদন দিলে পরবর্তী ধাপে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পারফরম্যান্স গ্যারান্টি জমা দেবে; সেটি যাচাই-বাছাই হবে। এরপর উভয়পক্ষের সম্মতিতে চুক্তি সই হবে।

দরপত্র প্রক্রিয়া ও চুক্তিমূল্য

দরপত্র আহ্বানের পর ১৭টি প্রতিষ্ঠান প্রাক-যোগ্যতা দলিল কিনলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠান দলিল দাখিল করে। এরপর একটি প্রতিষ্ঠান বাদ যায়। পরে তিনটি প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত দরপত্রে অংশ নেয় এবং কারিগরি মূল্যায়নে তিনটিই উত্তীর্ণ হয়। আর্থিক দরপত্র মূল্যায়নে সিনোহাইড্রো-এসইবিসিএল যৌথ উদ্যোগ সর্বনিম্ন মূল্যায়িত দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়।

সূত্রে বলা হচ্ছে, তাদের মূল দর ছিল ৩ হাজার ৩৫৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা। ভ্যাট, উৎসে আয়কর ও কাস্টমস শুল্ক যোগ হলে চূড়ান্ত চুক্তিমূল্য দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৮৫ কোটি ৬ লাখ ৯৩ হাজার ৫৫৮ টাকা। এর মধ্যে কর-শুল্ক বাদ দিলে প্রস্তাবিত দর দাপ্তরিক প্রাক্কলনের তুলনায় ৭ দশমিক ১৮ শতাংশ কম—যা ব্যয় সাশ্রয়ের দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বরাদ্দের চেয়ে বেশি, প্রকল্প সংশোধনের মাধ্যমে সংস্থান

তবে মূল উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে এই প্যাকেজের জন্য বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ২৩০ কোটি ৯০ লাখ টাকা। ফলে বর্তমান সুপারিশ করা চুক্তিমূল্য বরাদ্দের তুলনায় ৩ হাজার ৫৪ কোটি ১৬ লাখ টাকার বেশি। এই অতিরিক্ত অর্থ প্রকল্প সংশোধনের মাধ্যমে সংস্থানের কথা বলা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্প সংশোধনের কার্যক্রম চলমান আছে।

লাইন-১ প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের অর্থায়ন ১৩ হাজার ১১১ কোটি ১১ লাখ টাকা এবং জাইকার ঋণ ৩৯ হাজার ৪৫০ কোটি ৩২ লাখ টাকা। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ১৯ দশমিক ৮৭২ কিলোমিটার পাতাল এবং নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল ডিপো পর্যন্ত ১১ দশমিক ৩৬৯ কিলোমিটার উড়াল—মিলে মোট ৩১ দশমিক ২৪১ কিলোমিটারের প্রথম পাতাল মেট্রোরেলব্যবস্থা গড়ে ওঠার কথা।

প্রশ্ন-উত্তর

ডিপো নির্মাণের জন্য ঠিকাদার কীভাবে বাছাই হলো? আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে, যেখানে সিনোহাইড্রো-এসইবিসিএল যৌথ উদ্যোগ সর্বনিম্ন মূল্যায়িত দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।

চুক্তি সই হতে কাদের অনুমোদন লাগবে? সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের পর পারফরম্যান্স গ্যারান্টি যাচাই শেষে চুক্তি সই হবে।

ডিপো প্যাকেজে কী কী কাজ থাকবে? ওয়ার্কশপ, স্ট্যাবলিং শেড, পরিচালনা-কারিগরি কেন্দ্র, উপকেন্দ্র ও ট্র্যাকশন উপকেন্দ্রসহ একাধিক অবকাঠামো নির্মাণ।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons