GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / অর্থনীতি ও বাণিজ্য / বাংলাদেশ ব্যাংক: ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক আয় সহজ

বাংলাদেশ ব্যাংক: ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক আয় সহজ

ফ্রিল্যান্সাররা ডিজিটাল লেনদেন ও বৈদেশিক আয় দেশে আনার সুবিধা ব্যবহার করছে

ডিজিটাল প্রমাণেই মিলবে বৈদেশিক আয়ের স্বীকৃতি

ফ্রিল্যান্সাররা ডিজিটাল লেনদেন ও বৈদেশিক আয় দেশে আনার সুবিধা ব্যবহার করছে

ফ্রিল্যান্সিংকে উৎসাহ দিতে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সার্কুলারে বলা হয়েছে, ফ্রিল্যান্সার এবং ব্যক্তি পর্যায়ের সেবা রপ্তানিকারকরা এখন প্ল্যাটফর্ম স্টেটমেন্ট, ই-মেইল, চুক্তিপত্র ও অন্যান্য ডিজিটাল যোগাযোগের তথ্যকে বৈদেশিক আয়ের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। এতে প্রচলিত রপ্তানি নথির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং বৈদেশিক লেনদেনের বাস্তব প্রক্রিয়ার সঙ্গে আরও ভালো মিল পাওয়া যাবে।

২০ হাজার ডলার পর্যন্ত ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্সে শিথিলতা

ক্ষুদ্র অঙ্কের বৈদেশিক আয় আনার ক্ষেত্রেও সুবিধা রাখা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র ছাড়াই গ্রহণ করা যাবে। ফলে ছোট ছোট পেমেন্টও দ্রুত দেশে আনার পথ সহজ হলো—যা নিয়মিত ফ্রিল্যান্স আয়ের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে কাজে লাগবে।

ওপিজিএসপিতে ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত লেনদেন

এ ছাড়া অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডার বা ওপিজিএসপি ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত অর্থ গ্রহণের সুযোগও দেওয়া হয়েছে। তবে শর্ত আছে—নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই অর্থ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে। এতে ডিজিটাল চ্যানেলে লেনদেন বাড়লেও দায়বদ্ধতা বজায় থাকবে বলে নির্দেশনায় ইঙ্গিত আছে।

‘ফ্রিল্যান্সার কার্ড’, এমএফএসপি ও পিএসপি ব্যবহার সম্প্রসারণ

সার্কুলারে ডুয়াল-কারেন্সি ‘ফ্রিল্যান্সার কার্ড’ চালুর সুযোগও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার (এমএফএসপি) এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি)-এর ব্যবহার আরও সম্প্রসারণের পথও খোলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যুক্তি, এতে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার ব্যবহার সহজ ও গতিশীল হবে।

রপ্তানি আয়ের ইআরকিউ কোটা: তথ্যপ্রযুক্তিতে ৫০%, অন্য সেবায় ৩০%

ফ্রিল্যান্সিং বা সেবা রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে এক ধরনের নমনীয়তাও এসেছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ফ্রিল্যান্সাররা তাদের রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রায় এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) হিসেবে সংরক্ষণ করতে পারবেন। অন্যদিকে অন্যান্য সেবা রপ্তানিকারকদের জন্য সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ শতাংশ। এতে আন্তর্জাতিক ব্যয় নির্বাহে কিছুটা বাড়তি সুবিধা পাবেন সেবা রপ্তানিকারকরা।

সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগ ডিজিটাল সেবা ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক আয় দেশে আনার প্রক্রিয়া দ্রুত করতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়াতে এবং রপ্তানি আয়ের ব্যবস্থাপনায় সুবিধা দিতে নির্দেশনাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রশ্নোত্তর

ফ্রিল্যান্সারের আয়ের প্রমাণ হিসেবে কী কী গ্রহণ করা যাবে?
প্ল্যাটফর্ম স্টেটমেন্ট, ই-মেইল, চুক্তিপত্র এবং অন্যান্য ডিজিটাল যোগাযোগের তথ্য প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

২০ হাজার ডলার পর্যন্ত রেমিট্যান্স নিতে কি ঘোষণাপত্র লাগে?
না, নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী এই সীমার মধ্যে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র ছাড়াই গ্রহণ করা যাবে।

ইআরকিউ কোটা কত শতাংশ?
তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সর্বোচ্চ ৫০%, আর অন্য সেবা রপ্তানিকারকদের জন্য ৩০% নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার (মূল তথ্যসূত্র) — jagonews24.com উল্লেখসহ প্রাসঙ্গিক তথ্য

Social Icons