GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / অর্থনীতি ও বাণিজ্য / সোনাহাট স্থলবন্দরে পাথর আমদানি বন্ধ

সোনাহাট স্থলবন্দরে পাথর আমদানি বন্ধ

সোনাহাট স্থলবন্দরে পাথর আমদানি বন্ধ, ভারতীয় ট্রাক চলাচল কমে গেছে

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পাথর আমদানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। গত ১৮ জুলাই থেকে বন্দরের ব্যবসায়ীরা পাথর আমদানি থামিয়ে দিয়েছেন—দাম বৃদ্ধি, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া এবং সরবরাহ হওয়া পাথরের মান নিয়ে তীব্র আপত্তির জের ধরে।

টানা ছয় দিনেও ট্রাক না আসা

সোনাহাট স্থলবন্দরে পাথর আমদানি বন্ধ, ভারতীয় ট্রাক চলাচল কমে গেছে

বন্দর সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০টি ভারতীয় ট্রাক পাথর নিয়ে বন্দরে প্রবেশ করে। কিন্তু সাম্প্রতিক ছয় দিন ধরে একটি ট্রাকও আসেনি। ফলে বন্দরের ভেতরে পাথর ঘিরে যে দৈনন্দিন কাজকর্ম চলতো, তা প্রায় থমকে গেছে।

নিম্নমানের পাথর ও দাম বৃদ্ধির অভিযোগ

আমদানিকারকদের অভিযোগ, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা কয়েক দিন ধরে নিম্নমানের পাথর সরবরাহ করছেন। রিভার স্টোন বোল্ডারের বদলে ছোট আকারের পাথর পাঠানোর কথাও উঠে এসেছে। অটোক্রাশ মেশিনে ভাঙার পর পাথরের মান ও আকার ঠিক থাকে না—তাই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো সেসব কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

এদিকে দামের টানাটানিও ব্যবসায়ীদের চাপ বাড়িয়েছে। আগে প্রতি টন রিভার স্টোনের দাম ছিল ১১ ডলার। বাংলাদেশে পৌঁছাতে মোট খরচ হতো প্রায় এক হাজার ৩০০ টাকার মতো। কিন্তু বর্তমানে দাম বেড়ে ১৩ দশমিক ৫ ডলারে দাঁড়ানোয় প্রতি টনে খরচ বেড়ে প্রায় এক হাজার ৬৭০ টাকা হয়েছে। খনি থেকে সরাসরি পাথর ট্রাকে তোলায় মাটি ও বালির পরিমাণও বেশি থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণেই আমদানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত।

শ্রমিক ও পরিবহনচালকদের আয় কমে গেছে

আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের রোজগারও থেমে পড়েছে। শ্রমিক হাশেম আলী ও আছর উদ্দিন জানান, পাথর না আসায় কাজ নেই। পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন কাটছে তাদের। পরিবহনসংশ্লিষ্ট ট্রাকচালক ফরিদুল ইসলাম বলছেন, পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় আয়-রোজগার অনেক কমে গেছে।

রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের ক্ষোভে

আমদানিভিত্তিক এই সংকটের পেছনে সিন্ডিকেট, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকা এবং দাম-মানের অমিলকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক জানান, নিম্নমানের পাথর আসায় ঠিকাদাররা তা নিচ্ছেন না—তাই আপাতত আমদানিই বন্ধ।

সোনাহাট স্থলবন্দরের কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়কও বলছেন, দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমস্যা তৈরি হওয়ায় আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে। সোনাহাট স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) বলেন, ব্যবসায়ীদের সংকটে সরকার প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।

সোনাহাটে পাথর আমদানি কবে খুলবে?

এ মুহূর্তে সিদ্ধান্তটি অনির্দিষ্ট। পাথরের মান নিশ্চিত করা, সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং দামের সমন্বয় হলে আবার ট্রাক চলাচল শুরু হতে পারে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

প্রশ্ন: কখন থেকে পাথর আমদানি বন্ধ?
উত্তর: গত ১৮ জুলাই থেকে।

প্রশ্ন: কেন বন্ধ রাখা হয়েছে?
উত্তর: নিম্নমানের পাথর সরবরাহ, চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহ এবং দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে।

প্রশ্ন: ট্রাক না আসায় কারা বেশি ভুগছে?
উত্তর: স্থলবন্দরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শ্রমিক এবং পরিবহনসংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons