আন্তর্জাতিক আঙিনায় নতুন করে আলো ছড়াল বাংলাদেশের সিনেমা দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড। ভেনিস ও টরন্টোর পর এবার ৭০তম বিএফআই লন্ডন চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে ছবিটি জায়গা করে নিয়েছে, যেখানে থাকছে বেস্ট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড–এর লড়াইও। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এটা শুধু গ্ল্যামার নয়—বাংলাদেশি গল্প, ভাষা আর সংস্কৃতির প্রভাব যেন আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও জোরালোভাবে পৌঁছায়।
লন্ডন উৎসবের মূল প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি

আগামী ৭ থেকে ১৮ অক্টোবর যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত হবে ৭০তম বিএফআই লন্ডন চলচ্চিত্র উৎসব। এবারের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে মোট ১০টি সিনেমা অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড।
কোন পর্যায়ে থাকবে বেস্ট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড
শুধু মূল প্রতিযোগিতায় নাম লেখানোই নয়—ছবিটি উৎসবের বেস্ট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড-এর জন্য প্রতিযোগিতাতেও থাকবে। অর্থাৎ, বিচারকেদের নজরে পড়ে বিশ্বজুড়ে আলোচিত নির্মাতাদের পাশাপাশি বাংলাদেশের সিনেমাটিও সরাসরি পুরস্কারের দৌড়ে।
আগের সাফল্যের ধারাবাহিকতা
এর আগে ছবিটি ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব এবং টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও নির্বাচিত হয়ে আলোচনায় আসে। এই দুই উৎসবে প্রথম বাংলাদেশি সিনেমা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার কৃতিত্বও অর্জন করে দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড। লন্ডনের মূল প্রতিযোগিতায় আসায় সেই গতির সঙ্গে যোগ হয়েছে নতুন প্রত্যাশা।
মেফেয়ার বিউটি পার্লার ঘিরে মনস্তাত্ত্বিক ভৌতিক গল্প
ছবিটি মূলত একটি মনস্তাত্ত্বিক ভৌতিক সিনেমা। নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেন বলেন, ঢাকার ঐতিহ্যবাহী মেফেয়ার বিউটি পার্লারকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে গল্প। একসময় ওই পার্লারে এক কনে রহস্যজনকভাবে মারা যান। এরপর বিয়ের প্রস্তুতির জন্য এক তরুণী পার্লারে এলে একের পর এক অদ্ভুত ও অতিপ্রাকৃত ঘটনার মুখোমুখি হতে থাকে। রহস্য, মনস্তত্ত্ব আর অতিপ্রাকৃত উপাদান মিলিয়ে ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয় অজানা দিকগুলো।
কাদের অভিনয় ও প্রযোজনা
ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাইনীন করিম—এটাই তাঁর অভিনয়ে অভিষেক। গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আরও আছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী তিন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন, রিকিতা নন্দিনী শিমু ও সুনেরাহ বিনতে কামাল। এছাড়া রয়েছেন শতাব্দী ওয়াদুদ, সাবেরী আলম ও মোহাম্মদ বারী। আন্তর্জাতিক প্রযোজনার ক্ষেত্রেও রয়েছে বহু অংশীদার—রুবাইয়াত হোসেনের সঙ্গে যৌথভাবে প্রযোজনা করেছেন ফ্রান্সের ফ্রাঁসোয়া ডি’আর্তেমারে, জার্মানির আন্না ক্যাচকো, পর্তুগালের পেদ্রো বোর্গস এবং নরওয়ের ইনগার্ড লিল হটন।
প্রবাসী দর্শকদের কাছে এই খবরের মানে আরও গভীর: বাংলাদেশের নির্মিত সিনেমা আন্তর্জাতিক উৎসবের মূল মঞ্চে জায়গা পাচ্ছে—যা ভবিষ্যৎ কাজ, স্বীকৃতি এবং সম্ভাবনার পথ প্রশস্ত করে।
সংক্ষেপে জেনে নিন
- কোথায় যাচ্ছে বাংলাদেশি সিনেমা? বিএফআই লন্ডনের মূল প্রতিযোগিতায়।
- পুরস্কারের প্রতিযোগিতা আছে কি? হ্যাঁ, বেস্ট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডের জন্যও লড়বে।
- কী ধরনের গল্প? মেফেয়ার বিউটি পার্লারকে কেন্দ্র করে মনস্তাত্ত্বিক ভৌতিক কাহিনি।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









