মাউশির নির্দেশনায় শিক্ষক-কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট নজরে রাখতে ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মনিটরিং কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। আপত্তিকর বা নেতিবাচক কনটেন্টের ক্ষেত্রে প্রমাণ হিসেবে স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করে কমিটিকে ই-মেইলে জানাতে বলা হয়েছে। প্রবাসীসহ সবাই জানবে—প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা, আচরণবিধি ও অনলাইনে বক্তব্যের দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে সতর্ক বার্তা এলো।
মাউশির আওতাভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মনিটরিং

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন শিক্ষা পরিবারের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকা ও সরকারি আচরণবিধি মেনে চলছেন কি না—তা যাচাই করতে এই কমিটি করা হয়েছে। অধিদপ্তরের একটি চিঠিতে বিষয়টি জানানো হয়।
কোন ধরনের পোস্ট নজরে আনা হবে
চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারি নির্দেশিকা পরিপন্থী, আপত্তিকর, বিভ্রান্তিকর বা অসত্য তথ্যের পাশাপাশি নেতিবাচক কনটেন্টে নজর রাখবে কমিটি। এমনকি পোস্ট, মন্তব্য, ছবি, ভিডিওসহ যেকোনো কনটেন্ট যা দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে—তা মনিটরিংয়ের আওতায় আসবে।
স্ক্রিনশটসহ তথ্য পাঠানোর শর্ত
নজরে এলে তা ‘যথাযথভাবে সংরক্ষণ’ করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মনিটরিং কমিটির আহ্বায়ককে ই-মেইলের মাধ্যমে অবহিত করতে বলা হয়েছে। তথ্য পাঠানোর ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট কয়েকটি উপাদান উল্লেখ করা হয়েছে।
যেসব তথ্য বিবেচনা করা হবে—
- সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নাম, পদবি ও কর্মস্থল
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নাম, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট/প্রোফাইলের লিংক
- পোস্ট বা স্ট্যাটাস প্রকাশের তারিখ ও সময়
- পোস্ট/স্ট্যাটাসের স্ক্রিনশট বা অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণ
সরকারি নির্দেশিকা মানার বার্তা
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে নির্দেশিকা আছে, তা যথাযথভাবে প্রতিপালন নিশ্চিত করতে হবে। এই বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার–সংক্রান্ত নির্দেশিকা, ২০১৯’ পরিমার্জিত সংস্করণ জারি আছে—যার আলোকে শিক্ষকদের অনলাইন আচরণও মূল্যায়নের কাঠামো তৈরি হচ্ছে।
প্রবাসী পাঠকদের জন্য এর তাৎপর্য
অনলাইনে শিক্ষক-শিক্ষিকা বা সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ের কারণে কথাবার্তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই উদ্যোগের ফলে পোস্ট দেওয়ার আগে তথ্যের সত্যতা, ভাষার শালীনতা এবং সরকারি আচরণবিধি মেনে চলা—এসব বিষয় আরও গুরুত্ব পাবে বলে ইঙ্গিত মিলছে। প্রবাসেও সামাজিক মাধ্যমে থাকেন অনেক শিক্ষক-কর্মচারী; তাই তাদের দৈনন্দিন ব্যবহারে সতর্কতা বাড়ানোর বার্তা এটি।
সংক্ষেপে প্রশ্নোত্তর
মনিটরিং কমিটি কারা গঠন করেছে?
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাভুক্ত শিক্ষা পরিবারের সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার পরিবীক্ষণের জন্য অধিদপ্তর কমিটি করেছে।
কোন প্রমাণ জমা দিতে হবে?
চিঠি অনুযায়ী পোস্ট/স্ট্যাটাসের স্ক্রিনশটসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ করে জানাতে বলা হয়েছে।
শিক্ষক-কর্মচারীরা কী মেনে চলতে হবে?
সরকারি নির্দেশিকা ও আচরণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করার কথা বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









