গুলশানের ওয়েস্টিন ঢাকা হোটেলে ভারতীয় হাইকমিশন আয়োজিত সংবর্ধনায় শক্ত করে বার্তা দিলেন—অতীত ভুলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মধ্যেই দুই দেশের বাস্তব অগ্রগতি। প্রবাসী ও ব্যবসায়ীদের জন্য এই দিকটি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক, কারণ আস্থা-নির্ভর সম্পর্ক মানেই লেনদেন সহজ হওয়া, যাতায়াত বাড়া।
সামনে এগোনোর আহ্বান

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) এক উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সম্মানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, অতীতকে স্বীকার করতে হবে, কিন্তু সেটায় আটকে থাকা যাবে না। তার বক্তব্যে উঠে আসে—পুরোনো সমস্যাগুলো সমাধান করে এগিয়ে যাওয়ার পথই টেকসই সম্পর্ক তৈরি করে।
পারস্পরিক আস্থাই ভিত্তি
তিনি জোর দেন, নিঃশর্ত পারস্পরিক আস্থা যে কোনো দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের মূল ভিত্তি। প্রকৃত বন্ধু কারা—এই ব্যাখ্যায় বলেন, যারা একে অপরের সমস্যাগুলো বোঝে এবং একসঙ্গে সেগুলো সমাধানে এগোয়। দুই দেশের অভিন্ন ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রসঙ্গও টেনে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
ব্যবসায়ীদের ভূমিকা দূরত্ব কমাবে
হাইকমিশনার উল্লেখ করেন, দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব কমাতে ব্যবসায়ীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ভিন্নতা থাকলেও সমতা-চিন্তার জায়গা থেকেই পারস্পরিক স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা ও সমান সুযোগের কথা ভাবতে হবে। ফলে ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ার যৌক্তিকতাই স্পষ্ট হলো অনুষ্ঠানে।
বিজনেস ভিসা দ্রুত করার অনুরোধ
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ভারত ভ্রমণে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য দ্রুত, সম্ভব হলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবসায়িক ভিসা প্রক্রিয়া চালুর আহ্বান জানান। তার মতে, এতে ব্যবসায়ীরা আরও ঘন ঘন ভারতে যেতে পারবেন। চিকিৎসা পর্যটন ইতিমধ্যে ভালোভাবে বিকশিত—এটিও উল্লেখ করে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের আরও নিয়মিত যোগাযোগ নিশ্চিত করার ইচ্ছা ব্যক্ত করা হয়।
দু দেশের সহযোগিতার বার্তা
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীদের অভিজ্ঞতা দুপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া গেলে যৌথভাবে বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করা সম্ভব হবে। এই ধরনের আলোচনা মূলত লেনদেনের বাধা কমানো ও দ্বিপক্ষীয় কাজে গতি আনার দিকেই ইঙ্গিত করে।
অনুষ্ঠানে সিআইআইয়ের মহাপরিচালক চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি, এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এবং আরও বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতা উপস্থিত ছিলেন।
প্রবাসীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ও যাতায়াত সহজ হলে সুযোগ তৈরি হয়—চাকরি, ব্যবসা, বিনিয়োগ, এমনকি নিয়মিত ভ্রমণের ক্ষেত্রেও। ভিসা প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার কথাই প্রবাসী পরিবারের দৈনন্দিন বাস্তবতায় সরাসরি প্রভাব ফেলে।
প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: অনুষ্ঠানে মূল বার্তা কী ছিল?
উত্তর: অতীত ভুলে এবং পুরোনো সমস্যায় আটকে না থেকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান।
প্রশ্ন: ব্যবসায়ীদের জন্য কী ধরনের পদক্ষেপের কথা বলা হয়?
উত্তর: ভারত ভ্রমণের জন্য দ্রুত, সম্ভব হলে তাৎক্ষণিক ব্যবসায়িক ভিসা প্রক্রিয়া চালুর অনুরোধ।
প্রশ্ন: দুই দেশের সম্পর্কে কোন বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়?
উত্তর: নিঃশর্ত পারস্পরিক আস্থা এবং অভিন্ন ইতিহাস-সংস্কৃতির ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









