প্রবাসী বাংলাদেশিরাও যাঁদের প্রতিদিনের জীবনে পানি ও কৃষির প্রভাবটা টের পান, তাঁদের জন্য এই মুহূর্তটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নতুনভাবে সইয়ের আগেই বাংলাদেশ পক্ষের জোরালো বার্তা উঠেছে—১৯৭৭ সালের গ্যারান্টি সুরক্ষার ধারা ফিরিয়ে আনার।
মেয়াদ শেষ ঘিরে নতুন চুক্তির প্রস্তুতি

এ বছরের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি। ফলে ভারতের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করতে হবে—এমন বাস্তবতায় আগাম দর-কষাকষির সক্ষমতা বাড়ানোর কথাও বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় এসেছে।
১৯৭৭ সালের গ্যারান্টি ক্লজ পুনরুজ্জীবিত করার দাবি
সেমিনারে বলা হয়, ১৯৭৭ সালে সম্পাদিত চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ বা সুরক্ষার ধারা ছিল। পরে বিভিন্ন সময়ে সমঝোতা স্মারক ও পরবর্তী চুক্তিগুলিতে সেই সুরক্ষা ধারা আর থাকেনি। তাই নতুন চুক্তিতে পুরনো গ্যারান্টি ক্লজ ফিরিয়ে আনার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
তথ্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় জোর
পানিবণ্টনের ক্ষেত্রে ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে তথ্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় জোর দেওয়ার পরামর্শও এসেছে। প্রবাসীদের জন্য বিষয়টি আলাদা করে তাৎপর্যপূর্ণ—কারণ ন্যায্য পানি ব্যবস্থাপনা মানে দেশের কৃষি উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও খাদ্যনিরাপত্তার ভিত্তি শক্ত করা।
আন্তর্জাতিক আইন ব্যবহারের অবস্থান
আলোচনায় আন্তর্জাতিক আইনকে কাজে লাগানো এবং নতুন করে সইয়ের আগে দর-কষাকষিতে সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। সেমিনারের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অধিকার-স্বার্থ ধরে রাখার কথাও উঠে এসেছে।
সম্পর্কের ‘বন্ধুত্ব’ নয়—স্বার্থের সুরক্ষা
পানিসম্পদমন্ত্রী সম্পর্কের ধারাবাহিকতা নিয়েও সমালোচনামুখর বক্তব্য দেন। তবে সেই সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতি ও দেশের স্বার্থকে সম্মান করে চলার পক্ষেই অবস্থান দেওয়া হয়—বিশেষ করে চুক্তির সুরক্ষামূলক ধারা নিশ্চিত করার বিষয়ে।
প্রবাসী পাঠকের জন্য এর মানে কী?
পানিবণ্টন চুক্তির শর্ত বদলালে সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের নদীভিত্তিক জীবিকা ও অর্থনীতিতে। তাই গ্যারান্টি সুরক্ষা ও তথ্য অধিকার নিশ্চিত করার কথা বাস্তবভাবে পানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
প্রশ্ন: গ্যারান্টি ক্লজ বলতে এখানে কী বোঝানো হচ্ছে?
উত্তর: ১৯৭৭ সালের চুক্তিতে যে সুরক্ষার ধারা ছিল, সেটি নতুন চুক্তিতেও ফেরানোর কথা বলা হচ্ছে।
প্রশ্ন: তথ্য অধিকার কীভাবে কাজে লাগে?
উত্তর: পানিবণ্টনের ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে তথ্যপ্রবাহ ও জবাবদিহি জোরদারের ধারণা দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন: কেন এখনই নতুন চুক্তির আলোচনায় গুরুত্ব বাড়ছে?
উত্তর: ৩০ বছর মেয়াদি বর্তমান চুক্তির সময় দ্রুত শেষের দিকে, তাই প্রস্তুতি জরুরি।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









