দ্রব্যমূল্য মানুষের নাগালের বাইরে, জ্বালানিখাতে দফায় দফায় হয়রানি, আর জননিরাপত্তায় দৃশ্যমান উন্নতি নেই—এ বাস্তবতায় সংস্কার ছাড়া আগামী পাঁচ বছরেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণ হবে না বলে মন্তব্য করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
পরিস্থিতি বদলায়নি, ব্যক্তির বদল যথেষ্ট নয়

ইসলামী আন্দোলনের নিয়মিত বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে গাজী আতাউর রহমান বলেন, সরকারের অল্প সময়ে ব্যক্তির পরিবর্তন হলেও রাষ্ট্রের কাঠামোতে বা নীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসেনি। তাঁর ভাষায়, রাষ্ট্রের কাছে মানুষের চাওয়ার ক্ষেত্রে ‘স্বস্তিজনক খবর’ এখনো নেই।
দ্রব্যমূল্য, জ্বালানি হয়রানি ও নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ
দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, দ্রব্যমূল্য মানুষের নাগালের বাইরে। পাশাপাশি জ্বালানিখাতে দফায় দফায় হয়রানির অভিজ্ঞতা হচ্ছে। জননিরাপত্তার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ তোলা হয়। বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
আগামী পাঁচ বছরেও লক্ষ্য পূরণ কঠিন
তিনি জানান, রাষ্ট্রের কাঠামো ও নীতিগত জায়গায় পরিবর্তন না আসলে আগামী পাঁচ বছরেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হবে না। তাই জনপ্রত্যাশা পূরণে সংস্কারের ওপর জোর দেন।
উচ্চকক্ষ ও আর্থিক শৃঙ্খলা প্রসঙ্গ
সংস্কারের অংশ হিসেবে তিনি বিশেষ করে সাধারণ ভোটের আনুপাতিক হারের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠনের কথা বলেন। একই সঙ্গে আর্থিক খাতে কঠোর শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যায় জনদুর্ভোগ
ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যায় সৃষ্ট জনদুর্ভোগ ও উৎপাদন বিঘ্নিত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি গ্যাস ও জ্বালানিখাতে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান বের করতে গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব আশরাফুল আলমসহ বেশ কয়েকজন নেতা।
প্রবাসী পাঠকের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানি সংকটের চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স পরিবারের বাজেটে যে অংশ জুড়ে, সেখানে দাম ও উৎপাদন-ব্যবসার অনিশ্চয়তা সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই ‘সংস্কার’ ইস্যু ঘুরে ফিরে আসছে অর্থনীতি ও নিরাপত্তার বাস্তব মাটির প্রশ্ন হিসেবে।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
প্রধান বক্তব্য কী ছিল? সংস্কার ছাড়া আগামী পাঁচ বছরেও লক্ষ্য পূরণ হবে না বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
কোন কোন ক্ষেত্রে সমস্যার কথা বলা হয়? দ্রব্যমূল্য, জ্বালানি হয়রানি, জননিরাপত্তা ও বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
কী ধরনের সংস্কারের কথা এসেছে? উচ্চকক্ষ গঠন ও আর্থিক শৃঙ্খলা জোরদারের প্রস্তাবের কথা বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: JagoNews24.com









