জনগণের আস্থা ধরে রাখা মানেই ক্ষমতার ভেতর-বাইরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি আর মানুষের স্বার্থকে আগে রাখা। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই কথাটি শুধু স্লোগান থাকলে চলবে না; সিদ্ধান্ত থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত তা অনুভূত হতে হবে।
আস্থা মানে দায়িত্বের ধারাবাহিকতা

আস্থা তৈরি হয় যখন মানুষ দেখে, প্রতিশ্রুতি কেবল বলা হয় না; কাজ করে দেখানো হয়। আর কাজের ফলাফল খোলাখুলি আসে, কোথায় ঘাটতি হচ্ছে—তার ব্যাখ্যাও থাকে। প্রতিদিনের প্রশাসন থেকে শুরু করে নীতি বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে জবাবদিহির উপস্থিতি জরুরি।
জবাবদিহি ছাড়া বিশ্বাস টেকে না
জবাবদিহি মানে দায় এড়ানোর সুযোগ না থাকা। কারও সুবিধার সিদ্ধান্ত হলে তার প্রভাব কার জীবনে পড়ে—সেটা বিচার করার ব্যবস্থা থাকতে হবে। দুর্বলতা থাকলে তা সংশোধনের সংস্কৃতি না গড়ে উঠলে মানুষের প্রত্যাশা দ্রুত ফিকে হয়ে যায়।
‘সবার আগে বাংলাদেশ’—নীতি না হলে কী?
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ কথাটার ভেতরেই আছে জাতীয় স্বার্থকে কেন্দ্র করা। অর্থনীতি, উন্নয়ন, সেবা—সব জায়গায় ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত হিসাবের ঊর্ধ্বে উঠে বৃহৎ কল্যাণকে গুরুত্ব দেওয়া। প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছেও বিষয়টি সরাসরি প্রভাব ফেলে—কারণ তারা বৈধ উপার্জন দিয়ে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখেন। দেশে আস্থা কমে গেলে সেটাও এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করে।
প্রতিটি সিদ্ধান্তের নৈতিক পরীক্ষা
রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিটি সিদ্ধান্তের নৈতিক পরীক্ষা আছে। জনগণের আস্থা রক্ষায় দরকার নিয়মিত মূল্যায়ন, তথ্যভিত্তিক ব্যাখ্যা এবং ভুল হলে দ্রুত সংশোধন। এতে ভেতরের সমন্বয়ও শক্ত হয়, বাইরের চাপও কমে। ফলে প্রশাসনও চালানো সহজ হয়, মানুষও বুঝতে পারে—তাদের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
শেষ কথা, জনগণের আস্থা একদিনের অর্জন নয়। প্রতিদিনের আচরণ, স্বচ্ছতা, দায়িত্ব নেওয়া—এগুলোর ধারাবাহিকতার নামই আস্থা। জবাবদিহি শক্ত হলে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ ধারণাটাও বাস্তবে রূপ পায়।
প্রবাসী পাঠকদের জন্য এক প্রশ্ন
আপনি যে রেমিট্যান্স পাঠান, তা দেশের টেকসই উন্নয়ন ও আস্থা-বান্ধব শাসনের সঙ্গে যুক্ত হলে আপনার প্রত্যাশা কি আরও নিশ্চিত হবে না?
আরও দুইটি প্রশ্ন
জবাবদিহির ব্যবস্থা থাকলে মানুষ কি সহজে সরকারি কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে? ভুল হলে দ্রুত সংশোধনের সংস্কৃতি কি গড়ে উঠছে?
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: news.google.com









