কলকাতার অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ আট বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েও কথা বলা হয়েছে।
শোক ও সমবেদনা

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব শাহ ইফতেখার তারিক এক বিবৃতিতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন।
কলকাতার সেবায় নিরাপত্তা সংকটের অভিযোগ
বিবৃতিতে শাহ ইফতেখার তারিক বলেন, কলকাতার নাগরিক সেবাখাতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তাঁর দাবি, কলকাতার সেবাখাতের একটি বড় অংশ বাংলাদেশের ওপর নির্ভরশীল হলেও ভারত সরকার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ব্যর্থতার কথাও তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, ঝুঁকি নিয়েই পরিস্থিতি টিকে থেকেছে; তার পরিণতিতেই আটজন বাংলাদেশি নাগরিকের জীবন চলে যায়।
চিকিৎসার জন্য অন্য দেশে যেতে হওয়া
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিহতরা চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন। শাহ ইফতেখার তারিকের ভাষ্যে, স্বাধীন একটি দেশের নাগরিকদের চিকিৎসা মতো মৌলিক সেবা নিতে পাশের দেশে যেতে হওয়া—এটি হতাশার। তাঁর মতে, এটি বাংলাদেশের চিকিৎসাখাতের ব্যর্থতার প্রতিফলন।
এ দায় স্বাধীনতার পর যারা সরকার পরিচালনা করেছেন—তাদেরও বহন করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দায় কার, নৈতিক দায়িত্বের কথাও
নাগরিকদের কোনো দেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার আগে ওই দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রাথমিক খোঁজখবর নেওয়া সরকারের নৈতিক দায়িত্ব বলে বিবৃতিতে জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি কলকাতার সেবাখাতের ভঙ্গুর অবস্থা নিয়ে সরকার নাগরিকদের কোনো সতর্কবার্তা দিয়েছে কি না—সেটা জানা নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ফলে এই মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারেরও নৈতিক দায় রয়েছে বলে দাবি করা হয়।
মরদেহ পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব
শাহ ইফতেখার তারিক বলেন, নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব ভারত ও বাংলাদেশ—দুই সরকারকেই নিতে হবে। প্রবাসী পরিবারগুলোর জন্য এই দাবি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একই ঘটনার পর সবচেয়ে বড় কষ্ট হয় আপনজনকে শেষবারের মতো ঘরে ফিরিয়ে আনা নিয়ে অনিশ্চয়তায়।
কাতার প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছেও এই খবর সতর্কতার বার্তা—ভ্রমণ হোক বা চিকিৎসা, গন্তব্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ঝুঁকি যে সত্যিই প্রাণঘাতী হতে পারে।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
ইসলামী আন্দোলন কেন শোক প্রকাশ করেছে?
কলকাতার অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ আটজন বাংলাদেশির মৃত্যুতে সংগঠনটি শোক জানায়।
বিবৃতিতে কার দায়ের কথা বলা হয়েছে?
কলকাতায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থতা ও সতর্কবার্তার অভাব—এই প্রসঙ্গ তুলে ভারত ও বাংলাদেশ উভয় সরকারের নৈতিক দায়ের কথা বলা হয়।
মরদেহ নিয়ে কী বলা হয়েছে?
নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দুই সরকারকেই নিতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









