বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় ঔষধাগার (সিএমএসডি) নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে সিএমএসডির ঠিকাদার মো. হারুন আর রশিদের বিরুদ্ধে অনিয়মের নানা তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
অভিযোগকারী খালেদ সাইফুল্লা নাঈম বলেন, তিনি গত ১০ আগস্ট দুদকে অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, আগের সরকারের সময়ের দুর্নীতিবাজদের কাছ থেকে বর্তমান সরকারের কিছু সমর্থকও সুবিধা নিচ্ছেন।
দুদকের এক পদস্থ কর্মকর্তা জানান, অভিযোগটি চেয়ারম্যানের সামনে উপস্থাপন করা হবে। এরপর তার নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত করা হবে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক স্বপনের সময়ে ঠিকাদার হারুন আর রশিদ সিএমএসডিতে প্রভাবশালী ছিলেন। তিনি মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ঠিকাদার হিসেবে কাজ করতেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, দরপত্র ছাড়াই সিএমএসডিতে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল আইসিইউ বেড, সাধারণ বেড, ভেন্টিলেটর, অপারেশন টেবিল লাইট, মনিটর, আলট্রাসাউন্ড মেশিন ও এমআরআই মেশিন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কিছু ক্ষেত্রে নিম্নমানের মালামাল সরবরাহ করা হয়েছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে সরঞ্জাম সরবরাহ না করেই কোটি কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে।
জীবন রক্ষাকারী ওষুধ সরবরাহের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে হারুন আর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। হোয়াটসঅ্যাপে কল ও খুদেবার্তা পাঠিয়েও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হারুন আর রশিদের পক্ষে হুমায়ুন কবির নামে এক ব্যক্তি ফোন করে জানান, হারুন আর রশিদ দেশে নেই। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খোঁজ নিয়ে জানা যায় তিনি দেশেই আছেন।
অভিযোগে হারুন আর রশিদের সম্পদেরও বিভিন্ন তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার বনশ্রীতে একাধিক ফ্ল্যাট, বিভিন্ন এলাকায় দোকান ও প্লট এবং গাজীপুরে জমির কথা বলা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এসব সম্পদের মধ্যে বনশ্রীর কয়েকটি ফ্ল্যাটের আনুমানিক মূল্য ১৫ কোটি টাকা। গাজীপুরের দুটি প্লটের আনুমানিক মূল্য ১২ কোটি টাকা বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্রামের বাড়িতে তিনতলা ভবন, ধানের জমি, বাগান ও একাধিক পুকুর থাকার কথাও অভিযোগে বলা হয়েছে। এসব সম্পদের আনুমানিক মূল্য ৭ থেকে ৮ কোটি টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব সম্পদ ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।







