GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / আইন ও অপরাধ / আইনশৃঙ্খলা / তনু হত্যা মামলায় ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি

তনু হত্যা মামলায় ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি

তনু

তনু হত্যা মামলার দুই সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছে ইন্টারপোল।

সন্দেহভাজন দুজন হলেন মো. জাহিদুজ্জামান ও মো. শাহীন আলম

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ইন্টারপোল এই নোটিশ জারি করে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

তনু হত্যা মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে

তদন্তে জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলমকে গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে

তদন্তের প্রয়োজনে তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

এর আগেই দুজন দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান

তাদের শনাক্ত ও অবস্থান নির্ণয়ের জন্য রেড নোটিশের উদ্যোগ নেয় পিবিআই।

বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ইন্টারপোলের সঙ্গে যোগাযোগ করে।

মামলার তথ্য ও নথিপত্র যাচাই করে ইন্টারপোল পৃথক রেড নোটিশ জারি করে।

রেড নোটিশের পর ইন্টারপোলের সদস্য দেশগুলো তাদের শনাক্ত করতে পারবে

অবস্থান শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম বিষয়টি জানিয়েছেন।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাহিদ ও শাহীন দেশের বাইরে পালিয়ে গেছেন

পুলিশ তাদের সর্বশেষ অবস্থান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পেয়েছিল।

এরপর থেকে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তারা মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশে আত্মগোপনে থাকতে পারেন।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় সোহাগী জাহান তনু নিখোঁজ হন

তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।

তিনি একজন নাট্যকর্মীও ছিলেন

তনু কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়েছিলেন।

এরপর তিনি আর বাসায় ফেরেননি।

পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের কাছে ঝোপের মধ্যে তার মরদেহ পাওয়া যায়

পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন হত্যা মামলা করেন।

মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত করে

পরে তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে যায়।

এরপর মামলাটি সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়

প্রথম ময়নাতদন্তে তনুর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ পাওয়া যায়নি।

পরে আদালতের নির্দেশে দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্ত করা হয়।

তনুর পোশাকসহ বিভিন্ন আলামত ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠানো হয়।

২০১৭ সালে সিআইডি জানায়, তনুর পোশাক থেকে তিনজনের ডিএনএ পাওয়া গেছে

তবে ওই ডিএনএ কার তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

দীর্ঘ তদন্তের পরও সিআইডি কোনো আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিতে পারেনি

২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলাটি পিবিআইয়ে হস্তান্তর করা হয়

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে মো. তারিকুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেন।

এরপর পুরোনো আলামত ও ডিএনএ প্রোফাইল নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়

২০২৬ সালে আদালতের নির্দেশে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়

এসব নমুনা তনুর পোশাক থেকে পাওয়া ডিএনএর সঙ্গে মিলিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে

Social Icons