দেশের পোশাক খাতের প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিককে দ্রুত সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় আনার তাগিদ দিয়েছে তৈরি পোশাক মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ।
একই সঙ্গে শ্রমিকদের মাঝে এই স্কিম জনপ্রিয় করতে প্রথম দুই বছর বিশেষ সরকারি প্রণোদনা এবং পেনশনের বয়সসীমা ৬০ থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
শনিবার রাজধানীর বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের নুরুল কাদের অডিটরিয়ামে আয়োজিত ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিম’ বিষয়ক আলোচনা সভায় এই যুগান্তকারী প্রস্তাব তোলা হয়।
অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ প্রতিনিধিরা জানান যে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা ও শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পোশাক খাতের সবাইকে এতে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান মূল প্রবন্ধে জানান যে ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী যেকোনো নাগরিক ব্যাংকের মাধ্যমে চাঁদা দিতে পারবেন।
সংশোধিত বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০২৬ অনুযায়ী ১০০ জনের বেশি শ্রমিক থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সর্বজনীন পেনশনে অন্তর্ভুক্ত করা এখন বাধ্যতামূলক।
তিনি আরও জানান যে পেনশন ব্যবস্থাকে অধিকতর শক্তিশালী ও টেকসই করতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গ্রাহক ৬০ বছর পূর্ণ হলে পেনশনের সুবিধা পাবেন এবং মেয়াদপূর্তির আগে মারা গেলে মনোনীত ব্যক্তি মুনাফাসহ জমানো অর্থ ফেরত পাবেন।
বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জানান যে বিশাল সংখ্যক পোশাক শ্রমিককে পেনশনে অন্তর্ভুক্ত করা এবং ব্যবস্থাপনা ধরে রাখা চ্যালেঞ্জিং হলেও তা অত্যন্ত সময়োপযোগী।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সুরক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে বিজিএমইএ সুনির্দিষ্ট রূপরেখা নিয়ে কাজ করবে।


