রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার জাতীয় সংসদে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্যের লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী ব্যাংকিং খাতের এই বিপুল পরিমাণ খেলাপির বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন।
প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, ৭৫ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ নিয়ে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে জনতা ব্যাংক এবং ২৯ হাজার কোটি নিয়ে দ্বিতীয় অগ্রণী ব্যাংক।
এস আলম গ্রুপকে নতুন করে ঋণ সুবিধা প্রদান সম্পর্কিত এনসিপির সংসদ সদস্যের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান যে ইমোশন বা আবেগ দিয়ে অর্থনীতি পরিচালিত হয় না।
তিনি স্পষ্ট করেন যে ব্যক্তি ও করপোরেট সত্তা আলাদা হওয়ায় কোনো ব্যক্তির অপরাধের কারণে বিশাল কর্মসংস্থান ও ব্যাংক দায়যুক্ত কোনো বাণিজ্যিক কোম্পানি বন্ধ করা যায় না।
এস আলম গ্রুপের দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি বিচার প্রক্রিয়া সচল রেখে দেশের সার্বিক অর্থনীতির ক্ষতি এড়াতে নিয়ম মেনে এলসি ও পুনঃতফসিল সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
সংসদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের প্রতিটি নাগরিকের মাথাপিছু বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা।
তিনি জানান যে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮২ জন কৃষকের পাওনা ১ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা মওকুফ করেছে।
একই বৈঠকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে ইন্টারনেট বন্ধের কারণে ডিজিটাল ব্যবসা ও ই-কমার্স খাত চরম ক্ষতির মুখে পড়েছিল।
সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল ক্ষতি ও গণহত্যার উদ্দেশ্যে অন্যায়ভাবে সেবা বন্ধের পেছনে জড়িতদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়।

