হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় চীন ও নেপাল সীমান্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গিরং সীমান্ত স্থলবন্দরটি প্রায় সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।
রোববার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিদেশি সাংবাদিকদের তিব্বতের দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সুযোগ দিলে সেখানে পাঁচতলা বিশিষ্ট কাস্টমস ভবনের কোনো চিহ্ন দেখা যায়নি।
আগে ব্যস্ত থাকা এই আন্তর্জাতিক সীমান্ত পারাপার পয়েন্টে বর্তমানে কেবল ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি পানির টাওয়ারের অংশবিশেষ অবশিষ্ট রয়েছে।
সীমান্তের ২০ মিটার উঁচু তোরণের জায়গায় চীনা উদ্ধারকর্মীরা জাতীয় পতাকা টানিয়ে ‘বিপজ্জনক এলাকা, দ্রুত পার হোন’ সংবলিত সতর্কবার্তা ঝুলিয়ে দিয়েছেন।
গত ২৬ আগস্টের এই মারাত্মক হিমবাহ ধসে চীন ও নেপালে ইতোমধ্যে ১,৩০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
সামগ্রিক দুর্যোগে এখনো ৫ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে চীনের অংশে নিখোঁজ ৫৩১ জনের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশী নাগরিক।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪ হাজার মিটার উঁচুতে অবস্থিত গিরং কাউন্টিতে প্রচণ্ড ভূমিধস, কাদার পুরু স্তর ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত ব্যাহত হচ্ছে।
হাজার হাজার হিন্দু তীর্থযাত্রী প্রতি বছর নেপাল হয়ে তিব্বতের পবিত্র কৈলাস পর্বতে যাতায়াতের কাজে এই গিরং সীমান্ত পথ ব্যবহার করতেন।
বেইজিংয়ের কূটনীতিকদের তথ্যানুযায়ী, নিখোঁজ হওয়া বহু বিদেশী মূলত হিন্দু তীর্থযাত্রী ছিলেন, যার মধ্যে অন্তত ৪৯ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন।
বর্তমানে চীনা উদ্ধারকারী দল ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলটিকে সাতটি ব্লকে ভাগ করে ভারী খননযন্ত্র ও বেলচা দিয়ে নিখোঁজদের সন্ধানে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে।


