GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জাতীয় / কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশের কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কৃষিকাজে পর্যাপ্ত আয় না হওয়ায় শ্রমিকেরা এ পেশা ছেড়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি কৃষকের আয় বাড়ানো, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) পরিদর্শনকালে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ, কৃষকদের প্রণোদনা এবং কৃষি গবেষকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।

কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার তাগিদ

রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়লেও যথাযথ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে কৃষকেরা অনেক সময় ন্যায্যমূল্য পান না। এ সমস্যা সমাধানে সংরক্ষণ প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।

উত্তরাঞ্চলে প্রচুর আলু উৎপাদিত হলেও কৃষকেরা অনেক সময় তা বিক্রি করে ন্যায্য দাম পান না বলে উল্লেখ করেন তিনি। কখনো আলু রাস্তায় ফেলে দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়, অথচ পরবর্তী সময়ে বীজ আলুর দাম বেড়ে যায়। উৎপাদনস্থল থেকে ঢাকায় পৌঁছানোর পরও আলুর দাম অনেক বেড়ে যায় বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি।

একই সমস্যা অন্যান্য সবজি ও ফলমূলের ক্ষেত্রেও রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আলু, টমেটোসহ কৃষিপণ্য দীর্ঘদিন ভালো রাখার উপযোগী কোল্ড স্টোরেজ এবং আধুনিক সংরক্ষণপ্রযুক্তি সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।

কৃষকদের আয় বাড়াতে প্রণোদনা ও প্রযুক্তি

কৃষিকে লাভজনক করতে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় ও আয়—দুই দিকেই নজর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সুযোগ বাড়লে উৎপাদিত পণ্যের অপচয় কমানো এবং কৃষকের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে তার বক্তব্যে গুরুত্ব পায়।

এ সময় পেঁয়াজ উৎপাদনে কৃষি গবেষকদের সাফল্যের প্রশংসা করেন তিনি। একসময় পেঁয়াজ আমদানিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হতো উল্লেখ করে উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে গবেষণার ভূমিকার কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি।

ফল উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সেগুলো সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থাও উন্নত করার ওপর জোর দেন তিনি।

অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারে উদ্বেগ

কৃষিজমিতে অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। তার মতে, অতিরিক্ত সার মাটির ক্ষতি করার পাশাপাশি ফসলের গুণগত মানেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং টেকসই কৃষিপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

কৃষি গবেষকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর আহ্বান

কৃষি গবেষণাকে এগিয়ে নিতে বিজ্ঞানীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, কৃষি বিজ্ঞানীরা উপযুক্ত সুযোগ-সুবিধা না পেলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের এ পেশায় আকৃষ্ট করা কঠিন হবে।

কৃষি বিজ্ঞানীদের পেনশন-সংক্রান্ত বিধিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে কৃষিমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি কৃষি উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথাও স্মরণ করেন। খাল খনন কর্মসূচি এবং উচ্চফলনশীল ধানের বীজ সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষি খাতে পরিবর্তন আনার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, কৃষিবিদ ও কৃষি বিজ্ঞানীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের স্মরণ করেন এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করেন।

বারি পরিদর্শন ও চারা রোপণ

অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম রনি, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান, বারির মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল কাদির এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

বারির মহাপরিচালক স্বাগত বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। এর আগে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে বারি প্রাঙ্গণে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতিকে বাংলাদেশ পুলিশের একটি সুসজ্জিত দল গার্ড অব অনার দেয়।

পরিদর্শনের শেষ পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি বারির জিন ব্যাংক ও বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। পরে উদ্ভিদ কৌলিসম্পদ কেন্দ্রের (পিজিআরসি) প্রাঙ্গণে বারি কাঁঠাল-৬ জাতের একটি চারা রোপণ করেন।

Social Icons