কুমিল্লার চান্দিনায় ধানকাটা শ্রমিকের পরিচয়ে বাড়িতে ঢুকে ছমিরন খাতুন (৬০) নামে এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেফতার তিনজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের মধ্যে মো. মাসুম বিল্লা ওরফে রবিনকে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মতিয়ার রহমান শনিবার কুমিল্লা নগরের হাউজিং এস্টেট এলাকায় পিবিআই জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
তদন্তে জানা গেছে, গ্রেফতার ব্যক্তিরা আগে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ফিশারি ঘাটে একসঙ্গে গার্মেন্টস শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। পরে ধানকাটা শ্রমিকের পরিচয়ে কুমিল্লায় এসে ছমিরন খাতুনের বাড়িতে অবস্থান নেন।
ঘটনার পর তারা ওই বাড়ি থেকে ৭০ হাজার টাকা ও প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআইয়ের তদন্ত সূত্রে জানা যায়, গত ৩ মে সকালে চান্দিনা উপজেলার অলিপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে ছমিরন খাতুনের লাশ উদ্ধার করা হয়। তার শয়নকক্ষের দরজা খোলা ছিল। ঘরের কাঠের আলমারি খোলা এবং কাপড়চোপড় এলোমেলো অবস্থায় পড়ে ছিল।
প্রাথমিকভাবে জানা যায়, বাড়িতে ধান কাটার শ্রমিক হিসেবে অবস্থান করা কয়েকজন শ্রমিক টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে গেছেন। এরপর পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, শরীফুল ইসলাম শান্ত (২৭), মো. মাসুম বিল্লা ওরফে রবিন (৩১) এবং আরাফাত হোসেন (১৪) আগে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ফিশারি ঘাটে একসঙ্গে কাজ করতেন। পরে তারা ধানকাটা শ্রমিকের পরিচয়ে কুমিল্লায় গিয়ে ছমিরন খাতুনের বাড়িতে অবস্থান নেন।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন ধান কাটার কাজ ঠিকমতো না জানা এবং ধান নষ্ট হওয়াকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের সঙ্গে ছমিরন খাতুন ও তার স্বামীর কথা-কাটাকাটি হয়।
পরে রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়লে বৃদ্ধাকে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন আসামিরা।
পিবিআই জানায়, রাত ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে তারা ছমিরন খাতুনের ঘরে প্রবেশ করেন। এরপর তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তার কাছে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে তারা পালিয়ে যান বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. বশির আহাম্মদ বাদী হয়ে চান্দিনা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।
মামলাটি প্রথমে চান্দিনা থানা-পুলিশ সাত দিন তদন্ত করে। পরে মামলাটি পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত হওয়ায় ১০ মে পিবিআই কুমিল্লা জেলা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্তভার গ্রহণ করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই কুমিল্লা জেলার উপপরিদর্শক (নি.) মো. আমিরুল ইসলাম।
তদন্তের একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ১২ থেকে ১৫ মে চট্টগ্রাম, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় শরীফুল ইসলাম শান্তকে গ্রেফতার করা হয়।
পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৪ বছর বয়সি আরাফাত হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩ সেপ্টেম্বর ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী মো. মাসুম বিল্লা ওরফে রবিনকে গ্রেফতার করা হয়।
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মতিয়ার রহমান বলেন, গোয়েন্দা তথ্য ও বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে তদন্তের মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। মামলার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।





