ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থায় অনিয়ম ও কথিত ভোট কারচুপির অভিযোগ নিয়ে দেশটির রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে বৈঠক করেছে বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’। বৈঠকের পর লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেন, রাষ্ট্রপতি তাঁদের অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেননি; বরং এ বিষয়ে প্রমাণ চেয়েছেন। তবে রাষ্ট্রপতি ভবন সূত্র রাহুলের বক্তব্যকে ভুল বলে দাবি করেছে। খবর এনডিটিভির। <Cite refs={[“turn893917search1″,”turn893917search9”]}/>
রাহুল গান্ধী বলেন, নির্বাচনে কথিত কারচুপির বিষয়ে তাঁদের কাছে প্রমাণ রয়েছে এবং দেশের মানুষও বিষয়টি দেখেছেন। রাষ্ট্রপতি অভিযোগ অস্বীকার না করায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।
তবে রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে বৈঠকের আলোচনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি ভবন সূত্রের বক্তব্য, এ ধরনের বিতর্কে রাষ্ট্রপতিকে জড়িয়ে ফেলা দুর্ভাগ্যজনক। ফলে রাষ্ট্রপতি ভোট কারচুপির অভিযোগ স্বীকার করেছেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। <Cite refs={[“turn893917search1″,”turn893917search9”]}/>
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি
রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য ও নেতারা সংসদ ভবন থেকে রাষ্ট্রপতি ভবনের দিকে মিছিল করেন। পরে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি জানায়। <Cite refs={[“turn893917search1″,”turn893917search7”]}/>
রাষ্ট্রপতির কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে বিরোধীরা চারটি প্রধান দাবি তুলে ধরেন।
১. প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ২০২৩ সালের সংশ্লিষ্ট আইন বাতিলের দাবি।
২. ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) স্থগিত করা এবং তালিকা থেকে বাদ পড়া ১৩ কোটি ৩০ লাখ ভোটারের নাম পুনর্বহাল।
৩. সব নির্বাচনে কাগজের ব্যালট ফিরিয়ে আনা।
৪. গত দুই বছরে যেসব বিধানসভা নির্বাচনে ভোট কারচুপির প্রমাণ রয়েছে বলে বিরোধীরা দাবি করছেন, সেসব নির্বাচন বাতিল করা।
এসব দাবি বিরোধী জোটের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত হয়েছে; অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে নেই। <Cite refs={[“turn893917search1″,”turn893917search8”]}/>
সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার ঘোষণা
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক শেষে রাহুল গান্ধী জানান, আগামী সোমবার বিরোধী নেতারা ভারতের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করতে সুপ্রিম কোর্টে যাবেন। সেখানে নির্বাচনী ব্যবস্থায় কথিত অনিয়ম ও নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে একটি স্মারকলিপি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। <Cite refs={[“turn893917search1″,”turn893917search8”]}/>
এদিকে, রাষ্ট্রপতি ভবনের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বিরোধী জোটের অন্য নেতারা। তাঁদের হাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে লক্ষ্য করে লেখা প্ল্যাকার্ড ছিল। নির্বাচন কমিশন ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের মধ্যে যোগসাজশের অভিযোগও তোলেন তাঁরা।
বিরোধীদের অভিযোগের সমালোচনা বিজেপির
বিরোধীদের কর্মসূচির সমালোচনা করেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। দলটির মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী অভিযোগ করেন, কংগ্রেস সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক বিতর্কে টেনে এনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে এবং রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। <Cite refs={[“turn893917search1″,”turn893917search3”]}/>
অন্যদিকে বিরোধী জোটের বক্তব্য, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোর নিরপেক্ষ সমাধান চাওয়াই তাদের কর্মসূচির উদ্দেশ্য।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকের বক্তব্য নিয়ে রাহুল গান্ধী ও রাষ্ট্রপতি ভবন সূত্রের ভিন্ন অবস্থানের কারণে বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতি ভোট কারচুপির অভিযোগ স্বীকার করেছেন—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ এখনো পাওয়া যায়নি।









