দেশের স্বাধীনতা, সর্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় প্রয়োজনে জীবনের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর রোববার প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও সফরে গিয়ে সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নাগরিক সংবর্ধনায় তিনি এ ঘোষণা দেন।
বক্তব্যে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি হিংসা ও সংঘাত পরিহার করে আলোচনা ও পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণ রাজনীতি চর্চার আকুল আহ্বান জানান।
দীর্ঘ সংগ্রামের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, অতীতে বহু নির্যাতন সহ্য করতে হলেও তিনি আর দেশে মারামারি বা রক্তের খেলা দেখতে চান না।
তরুণ প্রজন্মকে অপরাধ ও মাদকের গ্রাস থেকে দূরে রেখে খেলাধুলা ও সুস্থ সামাজিক জীবনযাপনে উৎসাহিত করতে সর্বস্তরের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।
ঠাকুরগাঁওয়ের স্থানীয় উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি নিজ এলাকায় নতুন বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও তরুণদের কর্মসংস্থান তৈরির ওপর বিশেষ জোর দেন।
জন্মমাটির স্মৃতিচারণ করে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে রাষ্ট্রপতি জানান যে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের ভালোবাসা ও ঋণের বোঝা তিনি কোনোদিন পরিশোধ করতে পারবেন না।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে ঠাকুরগাঁওয়ের শুভকামনায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চরণ উদ্ধৃত করে বলেন, ‘মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক।’
অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন দল ও পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সফরের দ্বিতীয় দিনে সোমবার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ের জামালপুর ইউনিয়নের মহাশালীতে নবপ্রতিষ্ঠিত ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতির।

