GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জাতীয় / সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনে যেসব অভিযোগ

সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনে যেসব অভিযোগ

সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া ও কাজী গুলশান আরার বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী প্রচারণা, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক কনটেন্ট তৈরির অভিযোগ এনেছে পুলিশ। এসব অভিযোগের তদন্তে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হলেও আদালত চার দিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন।

গ্রেফতার দুজন হলেন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া (৪৭) এবং লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরা (৪৩)। রোববার দিবাগত রাত ১২টা থেকে সোমবার রাত ৩টা পর্যন্ত পরিচালিত বিশেষ অভিযানে রাজধানীর পল্লবী ও বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

সোমবার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক দিদারুল আলম তাঁদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে যেসব অভিযোগ

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেফতার দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও তাঁদের সহযোগীরা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা, তহবিল সংগ্রহ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, তাঁরা বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে সরকারবিরোধী প্রচারণা চালিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করেছেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি।

এ ছাড়া অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগও রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডিজিটাল আলামত ও অন্য আসামিদের শনাক্তের কথা

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১১ অক্টোবর পর্যন্ত আসামিরা সহযোগীদের নিয়ে সরকার ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং কুৎসামূলক প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তাঁদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি গুপ্তচরদের যোগাযোগের অভিযোগও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি মামলার অন্য আসামিদের শনাক্ত করা, তাঁদের অবস্থান নির্ণয়, সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল আলামত উদ্ধার এবং আসামিদের পরিচালিত ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজের তথ্য সংগ্রহের কথা বলা হয়েছে।

এসব বিষয় তদন্ত করে মামলার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটনের জন্য তাঁদের সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছিল।

রিমান্ড বাতিল চেয়ে আসামিপক্ষের বক্তব্য

শুনানিতে দেবাশীষ কুমার বড়ুয়ার পক্ষে আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মনসুর রিপন রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। তিনি যুক্তি দেন, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে দেশে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি বা দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই।

অন্যদিকে, কাজী গুলশান আরার পক্ষে আইনজীবী মশিউর রহমান রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে বলেন, তাঁর মক্কেল সেনাবাহিনীতে চাকরি করেছেন বলে সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা অস্বাভাবিক নয়। ফেসবুক পেজ খোলা বা কনটেন্ট তৈরি করাও নিজে থেকে অপরাধ প্রমাণ করে না বলে তিনি যুক্তি দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি

রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর হারুন-অর-রশীদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দুই আসামির সঙ্গে সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর যোগাযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগও করেন তিনি।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, দেশি-বিদেশি গুপ্তচরদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং অভ্যন্তরীণ তথ্য পাচারের অভিযোগও তদন্ত করা প্রয়োজন। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করা সম্ভব হতে পারে বলে তিনি আদালতে যুক্তি দেন।

ডিবির বক্তব্য

ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার মো. আকতার হোসেন জানান, সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে ডিবির নজরদারিতে ছিলেন।

প্রাথমিক তদন্তের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রাখার অভিযোগও তদন্ত করা হচ্ছে।

সাইবার অপরাধের মাধ্যমে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পর তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে রিমান্ড আবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। আদালতে রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য নয়।

তথ্যসূত্র: দৈনিক যুগান্তর

Social Icons