GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জাতীয় / সোলার প্যানেল বসিয়ে গ্রিডে বিদ্যুৎ দিলে মিলবে টাকা, জানুন পুরো নিয়ম

সোলার প্যানেল বসিয়ে গ্রিডে বিদ্যুৎ দিলে মিলবে টাকা, জানুন পুরো নিয়ম

সোলার প্যানেল বসিয়ে গ্রিডে বিদ্যুৎ দিলে মিলবে টাকা, জানুন পুরো নিয়ম

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে নতুন বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার।

নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করে নিজস্ব ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে প্রতি ইউনিটের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে অর্থ পাওয়া যাবে।

প্রতি ইউনিটে মিলবে ১০ টাকা ৫০ পয়সা

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপন জারির দিন থেকেই নতুন এই ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় প্রতি ইউনিট সর্বোচ্চ ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর সঙ্গে উৎপাদন ব্যয়ের ওপর ২০ শতাংশ মুনাফা এবং ১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যোগ করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা

কারা এই প্রণোদনা পাবেন?

নেট মিটারিং নির্দেশিকা-২০২৫ অনুযায়ী, যেসব গ্রাহক ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করবেন, তারা এই বিশেষ প্রণোদনার আওতায় আসবেন।

তবে শর্ত হলো, নিজেদের ব্যবহারের পর যে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ থাকবে, সেটি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে হবে।

কতদিন পাওয়া যাবে এই সুবিধা?

প্রণোদনার আওতায় থাকা গ্রাহকরা ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের জন্য প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে অর্থ পাবেন।

অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করলে পরবর্তী তিন বছর পর্যন্ত এই বিশেষ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

টাকা কীভাবে দেওয়া হবে?

প্রণোদনার অর্থ সরাসরি গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হবে

প্রতি তিন মাস অন্তর গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের পরিমাণ হিসাব করে অর্থ পরিশোধ করা হবে।

তবে কোনো অবস্থাতেই এই অর্থ নগদে দেওয়া হবে না।

কম খরচে সোলার বসালে কী হবে?

সরকার নির্ধারিত উৎপাদন ব্যয় সর্বোচ্চ ৮ টাকা প্রতি ইউনিট ধরা হলেও কোনো গ্রাহক এর চেয়ে কম খরচে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে পারলে সাশ্রয় হওয়া অর্থ তার লাভ হিসেবে বিবেচিত হবে।

অর্থাৎ কম খরচে ব্যবস্থা স্থাপন করতে পারলে গ্রাহকের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধার সুযোগ থাকবে।

২০২৭ সালের পর সোলার বসালে প্রণোদনা নেই

এখানে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় রয়েছে।

২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির পর যেসব ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে, সেগুলোর ক্ষেত্রে এই বিশেষ প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে না।

তাই নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ব্যবস্থা স্থাপন করাই এই সুবিধা পাওয়ার অন্যতম শর্ত।

সোলার প্যানেল ও যন্ত্রপাতিতে মানের শর্ত

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার, মিটারসহ সব ধরনের যন্ত্রপাতিকে নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড পূরণ করতে হবে।

এসব যন্ত্রপাতি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন বা বিএসটিআই এবং সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি বা স্রেডা নির্ধারিত মান অনুযায়ী হতে হবে।

কোথায় পাওয়া যাবে সহায়তা?

সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নীতিগত সহায়তা পাওয়া যাবে বিদ্যুৎ বিভাগের ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার থেকে।

এ ছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকেও প্রয়োজনীয় সহায়তা নেওয়া যাবে।

মূল কথা

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে সরকার নতুন বিশেষ প্রণোদনা চালু করেছে। ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে প্রতি ইউনিটে ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে অর্থ পাওয়া যাবে। এই সুবিধা ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

Social Icons