GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / আন্তর্জাতিক / ত্রাণ নয়, ক্ষতিপূরণ চায় নেপাল; নজরে ভারতসহ বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশ

ত্রাণ নয়, ক্ষতিপূরণ চায় নেপাল; নজরে ভারতসহ বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশ

ত্রাণ নয়, ক্ষতিপূরণ চায় নেপাল নজরে ভারতসহ বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশ

ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত নেপাল এবার শুধু আন্তর্জাতিক সহায়তা নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিপূরণ দাবি করার কথা বিবেচনা করছে। এ ক্ষেত্রে ভারতসহ বিশ্বের বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর দিকে নজর দিচ্ছে কাঠমান্ডু।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানালের বক্তব্যের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

সাহায্য নয়, ক্ষতিপূরণের দাবি

দুর্যোগের পর প্রতিবেশী নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। দেশটি ইতোমধ্যে দুই দফায় প্রায় ৪৭ টন ত্রাণ পাঠিয়েছে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর বিমানে করে প্রয়োজনীয় সামগ্রীও নেপালে পৌঁছেছে।

এর মধ্যেই নেপালের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যে ক্ষতি হচ্ছে, তার জন্য শুধু ত্রাণ বা আন্তর্জাতিক সহায়তা যথেষ্ট নয়। ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে তারা ক্ষতিপূরণের বিষয়টি সামনে আনতে চায়।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে নেপালের বক্তব্য

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কান্তিপুর টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেন, নেপালের বর্তমান বিপর্যয়কে শুধু আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে দেখলে হবে না।

তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ প্রভাবেই হিমালয় অঞ্চলের এই দেশ বারবার বন্যা, হড়পা বান ও ভূমিধসের মতো দুর্যোগের মুখে পড়ছে।

এ কারণে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নেপালের কূটনৈতিক অবস্থানেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানান তিনি।

ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের দিকে নজর

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করার বিষয়টি বিবেচনা করছে কাঠমান্ডু।

নেপালের যুক্তি হলো, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে দেশটির অবদান তুলনামূলকভাবে খুবই কম। কিন্তু বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব পাহাড়ি দেশটির ওপর ব্যাপকভাবে পড়ছে।

বড় অর্থনীতি ও শিল্প কর্মকাণ্ড থেকে বিপুল গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হচ্ছে, যার প্রভাব হিমবাহ, নদী, পাহাড় এবং বর্ষার স্বাভাবিক ব্যবস্থার ওপর পড়ছে বলে মনে করছে নেপাল।

হিমবাহ গলে বাড়ছে ঝুঁকি

নেপালের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে পাহাড়, নদী, হিমবাহ ও মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ায় হিমালয় অঞ্চলে হ্রদের পানির স্তর বৃদ্ধি, হড়পা বান ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেপালের এই ঝুঁকিকে আরও স্পষ্ট করেছে।

ত্রাণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান চায় নেপাল

নেপালের অবস্থান হলো, কোনো দুর্যোগের পর শুধু ত্রাণ পাঠালে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।

যেসব দেশ তুলনামূলকভাবে বেশি কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী, তাদের কাছ থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য অর্থনৈতিক সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এটিকে দাতব্যের বিষয় হিসেবে না দেখে আইনি ও নৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয় হিসেবে দেখার কথা বলেছেন।

ভারতের সহায়তার মধ্যেই নতুন কূটনৈতিক বার্তা

দুর্যোগের সময়ে ভারত দ্রুত নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে। ত্রাণ নিয়ে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একাধিক উড়ান নেপালে পৌঁছেছে।

তবে একই সময়ে নেপালের ক্ষতিপূরণের দাবি সামনে আসায় ভবিষ্যতে ভারতসহ বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর সঙ্গে কাঠমান্ডুর জলবায়ু কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

মূল কথা

ভয়াবহ বন্যা, হড়পা বান ও ভূমিধসের মতো দুর্যোগের জন্য শুধু ত্রাণ নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিপূরণ চায় নেপাল। এ ক্ষেত্রে ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর দিকে নজর দিচ্ছে কাঠমান্ডু।

Social Icons