যাত্রীদের সঙ্গে প্রথমে পরিচয় ও সখ্য গড়ে তুলে সুযোগ বুঝে খাবারে চেতনানাশক মিশিয়ে সবকিছু লুটে নেয় অজ্ঞান পার্টি।
দীর্ঘদিন ধরে দূরপাল্লার বাস, ট্রেন ও টার্মিনালে সক্রিয় এই চক্রটির খপ্পরে পড়ে গত এক বছরে দেশজুড়ে ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে যাত্রীদের পাশাপাশি এই অপরাধী চক্রগুলোর অন্যতম প্রধান টার্গেটে পরিণত হয়েছেন অটোরিকশাচালকেরা।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত রাজধানী ঢাকায় অন্তত তিন জন অটোরিকশাচালককে হত্যা করা হয়েছে।
প্রতিটি ক্ষেত্রেই যাত্রী সেজে রিকশায় উঠে চালককে অচেতন অথবা কুপিয়ে কিংবা হত্যা করে অটোরিকশাগুলো ছিনতাই করা হয়।
গত মার্চে শাহজাহানপুরে অটোরিকশামালিক সিকান্দারকে কুপিয়ে হত্যা এবং জুনে খিলগাঁওয়ের চালক দিদারুলকে চেতনানাশক দিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ছাড়া জুলাই মাসে পূর্ব বাড্ডার চালক অলিউর নিখোঁজের পর উলারটেক এলাকা থেকে তাঁর মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ডিএমপির তদন্তে এসব নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে সিসিটিভি বিশ্লেষণে সংঘবদ্ধ অজ্ঞান পার্টি চক্রের সরাসরি সম্পৃক্ততা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অটোরিকশাচালকদের সুরক্ষায় ঝুকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ, রাতের সিসিটিভি তদারকি এবং জরুরি সহায়তা ব্যবস্থা চালুর তাগিদ রয়েছে।
একই সাথে ছিনতাই হওয়া যানবাহন দ্রুত বিক্রির পথ বন্ধ করতে পুরোনো রিকশা ও অটোরিকশা কেনাবেচায় কঠোর পুলিশি নজরদারি প্রয়োজন।
