GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / রাজনীতি / আওয়ামী লীগ প্রশ্নে দিল্লির মনোভাবে কি পরিবর্তন আসছে?

আওয়ামী লীগ প্রশ্নে দিল্লির মনোভাবে কি পরিবর্তন আসছে?

শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্যের কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে নয়া দিল্লিতে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট নেতাদের অংশগ্রহণে নির্ধারিত একটি সেমিনার শেষ মুহূর্তে বাতিল করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। এতে প্রশ্ন উঠেছে, আওয়ামী লীগ প্রশ্নে দিল্লির মনোভাবে কি কোনো পরিবর্তন আসছে?

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক সেলিম মাহমুদসহ দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের অংশগ্রহণে শনিবার (২৯ আগস্ট) নয়া দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ায় (এফসিসি) ‘ইউরোপ অ্যান্ড এশিয়া: ফ্রম ডায়ালগ টু আ পার্টনারশিপ’ শীর্ষক সেমিনারটি হওয়ার কথা ছিল।

তবে অনুষ্ঠান শুরুর কিছুক্ষণ আগে দিল্লি পুলিশ অনুমতি না দেওয়ায় তা বাতিল করেন আয়োজকরা।

এফসিসির সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ নন্দ জানিয়েছেন, পুলিশ শুধু অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি নেই বলে জানিয়েছে। তবে কেন অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

দিল্লি পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, কোনো অনুষ্ঠানে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা থাকলে পুলিশ সেটি বাতিল করার অধিকার রাখে।

এফসিসি ও বেলজিয়ামভিত্তিক ‘হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন’-এর যৌথ আয়োজনে সেমিনারটির আয়োজন করা হয়েছিল।

আয়োজকদের প্রচারপত্রে বক্তা ও আলোচক হিসেবে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, বাংলাদেশি-আমেরিকান বিজ্ঞানী ও মানবাধিকারকর্মী নূরান নবী এবং রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী রবি আলমের নাম ছিল।

এ ছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি, ঢাকায় নিযুক্ত সাবেক জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহোল্টজ এবং চেক রাজনীতিবিদ ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ওন্দ্রেজ দোস্তালেরও আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

সেমিনারটি বাতিলের ঘটনাকে আলাদা করে দেখছেন না বাংলাদেশের কয়েকজন সাবেক কূটনীতিক ও বিশ্লেষক। কারণ, এর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে একই এফসিসিতে শেখ হাসিনাকে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে নয়া দিল্লির এফসিসি কার্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে অডিও লিংকের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শেখ হাসিনা।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম প্রকাশ্য গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম।

শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে বসে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার ঘটনায় ঢাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। ওই ঘটনার পর ঢাকা-নয়া দিল্লি সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও প্রকাশ্য হয়ে ওঠে।

বিবিসি বাংলার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সেই অভিজ্ঞতার পর দিল্লি আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রকাশ্য কোনো অনুষ্ঠান করার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হতে পারে।

বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিকদের কেউ কেউও মনে করছেন, শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর দিল্লি-ঢাকা সম্পর্ককে নতুন করে অস্বস্তিকর অবস্থায় নেওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে না ভারত।

অর্থাৎ, এবারের সেমিনার বাতিলকে কেউ কেউ ঢাকার উদ্বেগকে দিল্লির পক্ষ থেকে গুরুত্ব দেওয়ার সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

ভারত দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারত তাকে আশ্রয় দেওয়ায় ঢাকা-নয়া দিল্লি সম্পর্কে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়।

এরপর থেকেই ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের জন্য স্পর্শকাতর একটি বিষয় হয়ে ওঠে।

তবে দিল্লি পুলিশ সরাসরি আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্টতার কারণে সেমিনারটি বাতিল করেছে, এমন কোনো বক্তব্য দেয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে শুধু বলা হয়েছে, অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কা থাকলে যেকোনো অনুষ্ঠান বাতিল করার ক্ষমতা তাদের রয়েছে।

ফলে সেমিনার বাতিলের সঙ্গে আওয়ামী লীগ বা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সরাসরি সম্পর্ক আছে কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়।

তবু ঘটনাটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, একদিকে একই এফসিসিতে কয়েক সপ্তাহ আগে শেখ হাসিনার বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, অন্যদিকে এবার আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট নেতাদের অংশগ্রহণে একটি সেমিনার শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছে।

এই ধারাবাহিকতা থেকে ভারতের অবস্থানে কৌশলগত সতর্কতার কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া এবং তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ভারতের অবস্থান পুরোপুরি পরিবর্তিত হয়েছে কি না, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো অন্তত একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে, ভারত কি আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট প্রকাশ্য কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় বেশি সতর্ক হচ্ছে?

Social Icons