২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। সোমবার (১৯ অক্টোবর) এ তালিকা প্রকাশ করা হয়। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা মেধা ও সাধারণ—এই দুই শ্রেণিতে নির্ধারিত হারে মাসিক অর্থ এবং বইপত্র ও শিক্ষা উপকরণ কেনার জন্য বার্ষিক অনুদান পাবেন।
মেধা ও সাধারণ বৃত্তিতে কত টাকা?
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত শর্তাবলি অনুযায়ী, মেধাবৃত্তিপ্রাপ্ত প্রত্যেক শিক্ষার্থী মাসে ৬০০ টাকা করে পাবেন। পাশাপাশি বইপত্র ও যন্ত্রপাতি কেনার জন্য বছরে এককালীন ৯০০ টাকা দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা মাসে ৩৫০ টাকা করে পাবেন। তাঁদের বইপত্র ও শিক্ষা উপকরণ কেনার জন্য বছরে এককালীন ৪৫০ টাকা অনুদান দেওয়া হবে।
বৃত্তি পাওয়ার জন্য যেসব শর্ত মানতে হবে
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বৃত্তির অর্থ পেতে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে।
১. নির্ধারিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি: উচ্চ শ্রেণিতে পড়াশোনার জন্য অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে হবে। অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি না হলে বৃত্তির যোগ্যতা বজায় থাকবে না।
২. নিয়মিত উপস্থিতি ও সন্তোষজনক ফল: শিক্ষার্থীর সদাচরণ, বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি এবং সন্তোষজনক শিক্ষাগত অগ্রগতির ওপর বৃত্তি প্রদান নির্ভর করবে।
৩. প্রত্যয়নপত্র জমা: যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন, বৃত্তির গেজেটে সেই প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ভর্তিকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে বিধি অনুযায়ী বৃত্তির অর্থ উত্তোলনের জন্য অধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষকের প্রত্যয়নপত্র প্রয়োজন হবে।
৪. প্রতিষ্ঠান অবশ্যই অনুমোদিত হতে হবে: বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃত্তি কার্যকর হবে। অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তির জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।
বৃত্তিপ্রাপ্তদের বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ
বৃত্তিপ্রাপ্ত সব শিক্ষার্থী বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন। সরকারি অনুমোদিত কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাঁদের কাছ থেকে মাসিক বেতন দাবি করতে পারবে না।
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মাসিক বেতন নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে বলে বোর্ডের শর্তাবলিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৃত্তির সংখ্যা ও নিয়ম পরিবর্তন করতে পারবে সরকার
প্রকাশিত শর্তাবলিতে বলা হয়েছে, বৃত্তির সংখ্যা, হার ও মেয়াদ আপাতত নির্ধারিত। প্রয়োজন হলে সরকার কারণ উল্লেখ না করেও এসব পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারবে।
তাই বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তালিকায় নাম থাকার পাশাপাশি নির্ধারিত শর্ত পূরণ এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুসরণ করা জরুরি।
সূত্র: যুগান্তর প্রতিবেদন।









