GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / ধর্ম ও সমাজ / ইসলাম ও জীবন / কালো জাদুর অভিযোগে আত্মীয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা যাবে?

কালো জাদুর অভিযোগে আত্মীয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা যাবে?

পরিবারের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে কালো জাদুর মাধ্যমে ক্ষতি করার অভিযোগ উঠলে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করা যাবে কি না, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়। ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে কারও কাছ থেকে শারীরিক, মানসিক বা ধর্মীয় ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে নিজের নিরাপত্তার জন্য তাঁর সঙ্গে মেলামেশা সীমিত করা বা দূরত্ব বজায় রাখার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসলামি বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে মুফতি সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা ইসলামে নিষিদ্ধ হলেও অনিষ্ট থেকে বাঁচতে কোনো ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত রাখা বৈধ হতে পারে। তবে অকারণে স্থায়ী শত্রুতা পোষণ না করে সম্ভব হলে দূর থেকেও আত্মীয়তার ন্যূনতম সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করা উচিত।

মুফতি সিরাজুল ইসলাম গাজীপুরের মিরাশপাড়া এলাকার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের খতিব।

কালো জাদুর অভিযোগে সম্পর্ক বন্ধ করা যাবে?

প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়, পরিবারের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে কালো জাদুর মাধ্যমে ক্ষতি করার বিষয়টি বিভিন্নভাবে প্রমাণিত হলে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার গুনাহ হবে কি না। পাশাপাশি এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে রক্ষার উপায়ও জানতে চাওয়া হয়।

উত্তরে বলা হয়েছে, ইসলামে জাদুটোনা করা গুরুতর নিষিদ্ধ কাজ এবং এটি কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। একইভাবে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করাও নিষিদ্ধ।

তবে পরিবারের কোনো সদস্যের কারণে শারীরিক, মানসিক কিংবা দ্বীনি ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁর সঙ্গে মেলামেশা সীমিত করা বা কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখা যেতে পারে।

অর্থাৎ, ক্ষতি থেকে আত্মরক্ষার জন্য যোগাযোগ সীমিত করা আর বিদ্বেষের কারণে আত্মীয়তার সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করা এক বিষয় নয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখেও সম্পর্কের ন্যূনতম অধিকার রক্ষার চেষ্টা করা যেতে পারে।

দূরত্ব বজায় রাখলেও কী করা উত্তম?

উত্তরে অকারণে দীর্ঘস্থায়ী শত্রুতা পোষণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে দূর থেকে সালাম দেওয়া, খোঁজখবর নেওয়া এবং আত্মীয়ের কল্যাণের জন্য দোয়া করার চেষ্টা করা যেতে পারে।

তবে কারও কাছ থেকে বাস্তব ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে নিজের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সম্পর্ক বজায় রাখার অর্থ এই নয় যে, কাউকে অনিরাপদ পরিস্থিতিতে বারবার যেতে হবে বা ক্ষতিকর আচরণ সহ্য করতে হবে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে কীভাবে আত্মীয়তার অধিকার রক্ষা করা সম্ভব, তা নিয়ে বিশ্বস্ত ও অভিজ্ঞ আলেমের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

কালো জাদু থেকে সুরক্ষায় যেসব আমলের কথা বলা হয়েছে

প্রশ্নের উত্তরে আত্মরক্ষার জন্য কয়েকটি ইসলামি আমলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

১. আয়াতুল কুরসি পাঠ: সকাল-সন্ধ্যায় এবং ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পড়ার কথা বলা হয়েছে।

২. তিনটি সুরা তিলাওয়াত: সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস তিনবার করে পড়ে শরীরে ফুঁ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

৩. সুরা বাকারা তিলাওয়াত: ঘরে সুরা বাকারা পাঠ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

৪. নিয়মিত দোয়া পাঠ: বিপদ ও অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় চেয়ে নির্ধারিত দোয়া পড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

৫. শরিয়তসম্মত রুকইয়াহ: প্রয়োজন হলে অভিজ্ঞ আলেমের মাধ্যমে শরিয়তসম্মত ঝাড়ফুঁক বা রুকইয়াহ গ্রহণ করা যেতে পারে।

এ ক্ষেত্রে দোয়া ও ইবাদতের পাশাপাশি বাস্তব নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে কালো জাদু করার জন্য দায়ী করা কিংবা প্রমাণ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

সম্পর্ক ছিন্ন করা নিয়ে হাদিসে কী বলা হয়েছে?

উত্তরে সহিহ বুখারির ৬০৭৭ নম্বর হাদিসের উল্লেখ করা হয়েছে। হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলমানের জন্য তার ভাইয়ের সঙ্গে তিন রাতের বেশি সম্পর্কচ্ছেদ করে থাকা বৈধ নয়। তাঁদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি, যিনি আগে সালাম দেন।

হাদিসটি মুসলমানদের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘস্থায়ী না করা এবং পুনর্মিলনের উদ্যোগ নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে। তবে ক্ষতি বা নিরাপত্তার ঝুঁকি রয়েছে—এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে যোগাযোগ বজায় রাখা সম্ভব, তা সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

আত্মীয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে করণীয় কী?

পরিবারের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে কালো জাদুর অভিযোগ উঠলে আতঙ্কিত হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সম্পর্ক ছিন্ন করার পরিবর্তে পরিস্থিতি শান্তভাবে বিবেচনা করা উচিত। অভিযোগের ভিত্তি, বাস্তব ক্ষতির আশঙ্কা এবং নিরাপত্তার বিষয়গুলো আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।

প্রয়োজনে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে যোগাযোগ সীমিত করা যেতে পারে। পাশাপাশি ইসলামি আমল, দোয়া এবং বিশ্বস্ত আলেমের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

সব মিলিয়ে, ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্ব রয়েছে। তবে ক্ষতি থেকে আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় দূরত্ব বজায় রাখার সুযোগও রয়েছে বলে প্রশ্নের উত্তরে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভব হলে বিদ্বেষ ছাড়াই সম্পর্কের ন্যূনতম অধিকার রক্ষা করাই হতে পারে দায়িত্বশীল পথ।

উত্তরদাতা: মুফতি সিরাজুল ইসলাম, খতিব, বাইতুল মামুর জামে মসজিদ, মিরাশপাড়া, গাজীপুর।

Social Icons