GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জাতীয় / কৌশলগত অংশীদারত্বে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক, সহযোগিতা বাড়ানোর ঘোষণা দুই প্রধানমন্ত্রীর

কৌশলগত অংশীদারত্বে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক, সহযোগিতা বাড়ানোর ঘোষণা দুই প্রধানমন্ত্রীর

বাণিজ্য, জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং বৈদেশিক বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ পর্যায়ে উন্নীত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই নেতার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার তুলে ধরেন।

জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান সানায়ে তাকাইচি। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে দুই দেশের সরকারপ্রধান শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেন। স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে বৈঠক শুরু হয়।

জাপানের সঙ্গে বন্ধুত্বকে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের বিশেষ স্থান রয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ওপর দুই দেশের বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠিত।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাপান ছিল স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দিকের দেশগুলোর একটি। পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে দেশটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে আর্থসামাজিক অগ্রগতি ও অবকাঠামো উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে আসছে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের ধারাবাহিকতায় জ্বালানি, আইসিটি, বাণিজ্য, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার বিষয়ে দুই নেতা একমত হয়েছেন।

সমঝোতা স্মারক সই, বিনিয়োগের আহ্বান

তারেক রহমান জানান, সফরের সময় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে বৈঠকের ফলাফল ও অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে জাপানের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান এবং দেশের প্রবৃদ্ধিতে অংশীদার হওয়ার আমন্ত্রণ জানান।

তারেক রহমান বলেন, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পারস্পরিক লাভজনক ব্যবসায়িক সুযোগ সম্প্রসারণে জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, দুই দেশের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক সুযোগ ও অংশীদারত্বের শক্তিশালী ভিত্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। এর মাধ্যমে উভয় দেশের জনগণের জন্য সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার পাশাপাশি আগামী প্রজন্মের জন্য দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করা যাবে।

সম্পর্ক উন্নীত হচ্ছে কৌশলগত অংশীদারত্বে

বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও উচ্চপর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ঘোষণা দিয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে। জাপান বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে দেশটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

দুই দেশের সম্পর্ক ‘কৌশলগত অংশীদারত্বে’ উন্নীত হওয়ায় সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তাকাইচি।

বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর এই উদ্যোগ বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।

Social Icons