কুমিল্লার সীমান্তবর্তী উপজেলা ব্রাহ্মণপাড়ায় বন্য বানরের উৎপাত আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত কয়েক দিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে বানরের দল ঢুকে বাসাবাড়ির ফলমূল ও শাকসবজি নষ্ট করছে। এতে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সাহেবাবাদ ইউনিয়নের টাটেরা গ্রামের খানবাড়িতে একদল বানর ঢুকে গাছের পেয়ারা, পেঁপে ও চালার লাউ পেড়ে নষ্ট করে। এর এক সপ্তাহ আগেও একই গ্রামের আব্দুল আলীম খানের বাড়িতে বানরের দল একইভাবে ফলের ক্ষতি করে।
একই গ্রামের গাজীবাড়িতেও বানরের উৎপাত দেখা গেছে। বাসিন্দা মোস্তফা কামাল জানান, বানরগুলো বাড়িতে ঢুকে পেয়ারা ও আমড়াসহ বিভিন্ন ফল ছিঁড়ে নষ্ট করে নিয়ে গেছে।
গত ১৫ দিন ধরে ধান্যদৌল চৌধুরী বাড়িসহ আশপাশের এলাকাতেও একাধিক বানরের বিচরণ দেখা যাচ্ছে। চৌধুরী বাড়ির প্রধান শিক্ষক অপু খান চৌধুরী বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে কয়েকটি বানর তাদের বাড়িতে ঘোরাফেরা করছে। এগুলো গাছ থেকে কলা, পেঁপে, পেয়ারা, জাম্বুরা ও লাউ ছিঁড়ে নষ্ট করছে। কোনোভাবেই বানরগুলোকে আটকানো যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি।
বর্তমানে উপজেলার সিদলাই, চান্দলা, শশীদল, মাধবপুর, মালাপাড়া, সাহেবাবাদ ও ব্রাহ্মণপাড়া সদরের বিভিন্ন গ্রামে বন্য বানরের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে সিদলাই আমীর হোসেন জাবেদা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলাম বলেন, প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তার মতে, বানর স্বভাবতই শান্ত ও দলবদ্ধ প্রাণী। প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ায় তারা লোকালয়ে চলে আসছে। বন্য প্রাণীর এই উপদ্রব থেকে ফসল ও ফলমূল রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বন কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, বন ও প্রাকৃতিক ঝোপঝাড় কেটে মানুষের বসতি ও বাগান গড়ে তোলায় বনভূমির পরিমাণ কমছে। এতে বন্য প্রাণীদের স্বাভাবিক আবাসস্থল ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি খাদ্যসংকটও তৈরি হচ্ছে। খাবারের সন্ধান ও জীবন বাঁচাতে বানরগুলো লোকালয়ে প্রবেশ করছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
