জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীর দীর্ঘদিনের একটি আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়েছে তুরস্ক সফরে। দেশটির ঐতিহাসিক শহর ও গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনা ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে আজহারী জানান, টানা দুই সপ্তাহের সফরে তুরস্কের ইস্তাম্বুল, আঙ্কারা ও বুরসা শহর ভ্রমণের সুযোগ হয়েছে তাঁর। এ সফর তাঁর অভিজ্ঞতার ভান্ডার সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি স্মরণীয় কিছু মুহূর্ত উপহার দিয়েছে।
তোপকাপি প্যালেস দেখার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা
আজহারী জানান, ছোটবেলা থেকেই ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক তোপকাপি প্যালেস পরিদর্শনের ইচ্ছা ছিল তাঁর। তুরস্ক সফরে সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ হওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
তোপকাপি প্যালেসের একটি জাদুঘরে ইসলামের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন পবিত্র স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষিত রয়েছে। আজহারীর পোস্ট অনুযায়ী, সেখানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর চুল ও দাড়ি মোবারক, চাদর, তরবারি, জুতা, দন্ত মোবারকের অংশ এবং পায়ের ছাপসহ নবী পরিবারের ব্যবহৃত বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন রাখা আছে।
পবিত্র স্মৃতিচিহ্ন ইস্তাম্বুলে নেওয়ার ইতিহাস
আজহারী তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, উসমানী শাসনামলে বিভিন্ন সময়ে মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে সম্পর্কিত পবিত্র স্মৃতিচিহ্নগুলো ইস্তাম্বুলে আনা হয়। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, ১৫১৭ সালে উসমানী সুলতান প্রথম সেলিমের সময় এবং পরবর্তী সময়ে ১৯১৭ সালে মদিনার উসমানী গভর্নর ফখরি পাশার নেতৃত্বে হিজাজ রেলওয়ের একটি বিশেষ ট্রেনে করে এসব স্মৃতিচিহ্ন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে স্থানান্তর করা হয়।
তিনি জানান, স্মৃতিচিহ্নগুলো বর্তমানে ইস্তাম্বুলের তোপকাপি প্যালেসের জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে।
আবু আইয়ুব আল আনসারী (রা.)-এর কবর জিয়ারত
তুরস্ক সফরের আরেকটি উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন আজহারী। তিনি বলেন, ইস্তাম্বুলের আইয়ুব সুলতান মসজিদের পাশে মহানবী (সা.)-এর প্রিয় সাহাবি আবু আইয়ুব আল আনসারী (রা.)-এর কবর জিয়ারতের সুযোগ হয়েছে তাঁর।
ইসলামের ইতিহাসে আবু আইয়ুব আল আনসারী (রা.) বিশেষভাবে পরিচিত। আজহারীর পোস্টে উল্লেখ করা হয়, মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় পৌঁছানোর পর মহানবী (সা.) তাঁর বাড়িতে অবস্থান করেছিলেন। তুরস্কে তিনি ‘আইয়ুব সুলতান’ নামেও পরিচিত।
স্মরণীয় হয়ে থাকবে তুরস্ক সফর
দুই সপ্তাহের এই সফরে তুরস্কের তিনটি ঐতিহাসিক শহর ঘুরে দেখা, তোপকাপি প্যালেস পরিদর্শন এবং আবু আইয়ুব আল আনসারী (রা.)-এর কবর জিয়ারতের অভিজ্ঞতা আজহারীর কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি সফরের স্মৃতি ও অনুভূতি তুলে ধরেছেন। তাঁর বর্ণনায়, দীর্ঘদিনের ইচ্ছা পূরণের পাশাপাশি এই ভ্রমণ নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনেরও সুযোগ করে দিয়েছে।









