পূজা উপলক্ষে মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলোতে দর্শক টানতে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হলেও প্রেক্ষাগৃহে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। ঢাকঢোল পিটিয়ে ছাদখোলা বাসে প্রচারণা চালানো ‘স্নেহের বন্ধন’ সিনেমার একটি সন্ধ্যার প্রদর্শনীতে সাধারণ দর্শকের টিকিট কেনার সংখ্যা ছিল মাত্র দুজন। বিক্রি হওয়া ৩৭টি টিকিটের মধ্যে ৩৫টিই কিনেছিলেন সিনেমাটির প্রচারে আসা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
একই দিনে ‘কাটপিস’ সিনেমার টিকিট বিক্রির সংখ্যাও ছিল হতাশাজনক। কেরানীগঞ্জের লায়ন সিনেমাসে ছবিটির টিকিট বিক্রি হয়েছিল মাত্র আটটি।
‘স্নেহের বন্ধন’-এর ৩৭ টিকিটের ৩৫টিই কিনেছেন সংশ্লিষ্টরা
চলতি পূজায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া চারটি সিনেমার মধ্যে ‘স্নেহের বন্ধন’ ও ‘কাটপিস’ চলছে কেরানীগঞ্জের লায়ন সিনেমাসে। তবে মুক্তির প্রথম দিন থেকেই ছবি দুটিতে দর্শকসংকট দেখা যাচ্ছে।
লায়ন সিনেমাসের প্রতিষ্ঠাতা মির্জা আবদুল খালেক গণমাধ্যমকে জানান, মুক্তির প্রথম দিন সিনেমা দুটির একাধিক প্রদর্শনীতে কোনো দর্শকই আসেননি। এমনকি শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত ছবি দুটির দুটি শোতে একটি টিকিটও বিক্রি হয়নি।
তিনি জানান, শনিবার সন্ধ্যায় ‘স্নেহের বন্ধন’-এর একটি প্রদর্শনীতে ৩৭টি টিকিট বিক্রি হয়। এর মধ্যে ৩৫টি টিকিট কেনেন সিনেমাটির প্রচারে আসা প্রযোজক, পরিচালক, নায়ক-নায়িকা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। অর্থাৎ সাধারণ দর্শকের কাছ থেকে টিকিট বিক্রি হয় মাত্র দুটি।
অন্যদিকে, একই দিনে ‘কাটপিস’ সিনেমার টিকিট বিক্রি হয় মাত্র আটটি।
সামাজিক মাধ্যমে প্রচারণা, হলে দর্শকসংকট
মুক্তির পর ‘স্নেহের বন্ধন’ সিনেমাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পেজে প্রচারণা চলছে। কোথাও দাবি করা হচ্ছে, সিনেমাটি দেখে দর্শকরা আবেগাপ্লুত হয়ে হল থেকে বের হচ্ছেন। আবার কোথাও ছবিটিকে সেরা ফ্যামিলি ড্রামা হিসেবেও তুলে ধরা হচ্ছে।
তবে লায়ন সিনেমাসে টিকিট বিক্রির হিসাবের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণার চিত্রের বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।
হলমালিক মির্জা আবদুল খালেকের মতে, মুক্তির আগে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করে প্রচারণা চালানোর পরও যদি দর্শক হলে না আসেন, তাহলে সেই প্রচারণার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
বিদ্যুৎ ও এসির খরচ নিয়েও আক্ষেপ হলমালিকের
মির্জা আবদুল খালেক বলেন, সারা দিন প্রদর্শনীতে কোনো টিকিট বিক্রি হয়নি। শনিবার সন্ধ্যায় যে ৩৭টি টিকিট বিক্রি হয়েছে, তার মধ্যে ৩৫টি কিনেছেন সিনেমার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
তাঁর মতে, এভাবে দেশের চলচ্চিত্রশিল্প এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। ভালো সিনেমা নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ভালো ছবি তৈরি হলে এরপর প্রচারণা চালালে দর্শক এমনিতেই হলে আসবেন। সিনেমা দেখার পর দর্শকের মুখে মুখে ইতিবাচক প্রচারও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, সিনেমা চালানোর অনুরোধ এলে পোস্টার ছাপানোসহ বিভিন্ন প্রচারকাজে অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হয়। দর্শক না এলে সিনেমা প্রদর্শনের কারণে বিদ্যুৎ, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রসহ অন্যান্য খরচও বহন করতে হয়।
হলমালিকের ভাষ্য, সিনেমাটি না চালালে এসব খরচ থেকে অন্তত কিছুটা সাশ্রয় করা যেত। তবে অনুরোধের কারণে ছবিটি প্রদর্শন করতে হচ্ছে।
ছাদখোলা বাসে প্রচারণার পরও হতাশাজনক চিত্র
‘স্নেহের বন্ধন’ সিনেমায় জুটি বেঁধেছেন জয় চৌধুরী ও মৌ খান। কামরুজ্জামান পরিচালিত ছবিটির প্রযোজক শাহ আলম।
মুক্তির আগে ছবিটির নায়ক-নায়িকা ও প্রযোজক ছাদখোলা বাসে চড়ে ঢাকায় জমকালো প্রচারণা চালান। তবে মুক্তির পর প্রেক্ষাগৃহে দর্শক উপস্থিতি নিয়ে হতাশার কথা উঠে এসেছে লায়ন সিনেমাসের টিকিট বিক্রির হিসাবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, লায়ন সিনেমাস ছাড়াও দেশের আরও ১৩টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ‘স্নেহের বন্ধন’। তবে অন্যান্য হলের দর্শক উপস্থিতিও সন্তোষজনক নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
একইভাবে ‘কাটপিস’ সিনেমাটিও দর্শকসংকটে ভুগছে। পূজার মৌসুমে নতুন সিনেমা মুক্তি পেলেও হলে দর্শক টানতে না পারার বিষয়টি চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: যুগান্তর বিনোদন ডেস্ক।









