বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ‘মানুষকে জান্নাতে যাওয়ার পথ দেখিয়ে দেওয়া’ সংক্রান্ত বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি অভিযোগ করেছেন, মিথ্যা ও ধোঁকাবাজির মাধ্যমে জামায়াত মানুষকে যে জান্নাতের পথ দেখাতে চায়, সেটি দাজ্জালের জান্নাত।
বুধবার (২১ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জামায়াতের বিভিন্ন বক্তব্য ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
শফিকুর রহমানের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তাঁর দল মানুষকে জান্নাতে যাওয়ার পথ দেখিয়ে দেয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে রাশেদ খাঁন হাদিসে বর্ণিত দাজ্জালের প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন তোলেন, জামায়াত মানুষকে আসলে কোন জান্নাতের পথ দেখাতে চায়।
তিনি দলটির বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যে অসংগতি রয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তবে তাঁর এসব মন্তব্য রাজনৈতিক সমালোচনার অংশ।
বিদেশিদের সঙ্গে বৈঠক ও শরিয়াহ আইন প্রসঙ্গ
পোস্টে রাশেদ খাঁন জামায়াতের রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বিদেশিদের সঙ্গে বৈঠক এবং ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন চালু করা হবে কি না—এমন বিষয়ও তুলে ধরেন।
তিনি প্রশ্ন করেন, জামায়াতের দেখানো পথ কি নির্বাচনের আগে বিদেশিদের সঙ্গে বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে সম্পর্কিত, নাকি দলটির অন্য কোনো রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন।
এ ছাড়া গাজী নজরুল ইসলামের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন তিনি। তবে এসব বিষয়ে তাঁর বক্তব্যের পক্ষে আলাদা কোনো ব্যাখ্যা বা প্রমাণ পোস্টের উদ্ধৃত অংশে তুলে ধরা হয়নি।
জামায়াতের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা
রাশেদ খাঁন তাঁর পোস্টে আরও কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করে জামায়াতের রাজনৈতিক ভূমিকার সমালোচনা করেন। এর মধ্যে শহীদ আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আইনজীবী হওয়া, রোজা ও পূজাকে ‘মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ’ বলার বক্তব্য এবং ‘আগে ছিল হিন্দু মানে নৌকা, এবার হবে হিন্দু মানে দাঁড়িপাল্লা’—এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গ রয়েছে।
তিনি একদিকে কৃষ্ণ নন্দীকে মনোনয়ন দেওয়া এবং অন্যদিকে জান্নাতের টিকিট দেওয়ার বক্তব্যের মধ্যে সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
এসব প্রসঙ্গ তুলে রাশেদ খাঁন জামায়াতের রাজনৈতিক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মধ্যে বৈপরীত্য রয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
জুলাইয়ের সঙ্গে ‘গাদ্দারি’র অভিযোগ
পোস্টে রাশেদ খাঁন আরও অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের এক মাসের মাথায় আওয়ামী লীগের বিচার দাবি না করে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার মাধ্যমে জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি করা হয়েছিল।
এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান ও অতীতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে পোস্টে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে জামায়াতের কোনো বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
ফেসবুক পোস্টে কড়া মন্তব্য
পোস্টের শেষাংশে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘মিথ্যা ও ধোঁকাবাজির মাধ্যমে জামায়াত মানুষকে যে জান্নাতের পথ দেখাতে চায়, সেটা তো দাজ্জালের জান্নাত!’
জামায়াতের আমিরের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দেওয়া তাঁর এ মন্তব্যে দলটির রাজনৈতিক অবস্থান, ধর্মীয় বক্তব্য এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক সামনে এসেছে। তবে এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।









