জাপানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সি মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো ১ লাখ ছাড়িয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নতুন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে জাপানে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জন।
এর মধ্যে নারী ৯৪ হাজার ২৯৮ জন এবং পুরুষ ১৩ হাজার ৩৭৯ জন। অর্থাৎ দেশটির শতবর্ষী মানুষের প্রায় ৮৮ শতাংশই নারী।
বাড়ছে দীর্ঘায়ু
জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে জীবনযাত্রার উন্নতি, পুষ্টি ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন এবং চিকিৎসা প্রযুক্তির অগ্রগতিকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছে।
বর্তমানে জাপানের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি ১১৪ বছর বয়সি কিশিমোতো ফুয়ো। তিনি কিয়োটো শহরের বাসিন্দা। গত আগস্টে ১১৫ বছর বয়সি আগের সর্বোচ্চ বয়সি নাগরিক মারা যাওয়ার পর তিনি দেশের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি হন।
জাপানিদের দীর্ঘজীবনের সঙ্গে তাদের জীবনযাত্রার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। মাছ, শাকসবজি ও ভাত দেশটির প্রচলিত খাদ্যতালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পাশাপাশি অনেক প্রবীণ নিয়মিত হাঁটাচলা করেন, গণপরিবহণ ব্যবহার করেন, সাইকেল চালান এবং শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকেন।
দীর্ঘজীবনের পাশাপাশি জনসংখ্যাগত সংকট
তবে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা বাড়লেও জাপান একই সঙ্গে কম জন্মহার ও তরুণ জনগোষ্ঠী কমে যাওয়ার মতো জনসংখ্যাগত সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে।
জাপানের মোট প্রজনন হার গত বছর রেকর্ড সর্বনিম্ন ১ দশমিক ১৪-এ নেমেছে। ফলে মোট জনসংখ্যায় বয়স্ক মানুষের অনুপাত ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমানে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সি নাগরিকরা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশ।
এই পরিস্থিতিতে প্রবীণদের জীবনযাত্রা সহজ করতে জাপানে নতুন প্রযুক্তিও তৈরি হচ্ছে। শরীরের নড়াচড়ায় সহায়তা করা যন্ত্র থেকে শুরু করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দৃষ্টির ফোকাস ঠিক করতে পারে এমন চশমাও তৈরি করা হচ্ছে।
কয়েক দশকে শতবর্ষীর সংখ্যা বেড়েছে
জাপানে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির ধারাটি দীর্ঘদিনের। ১৯৬৩ সালে দেশটিতে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সি মানুষ ছিলেন মাত্র ১৫৩ জন। ১৯৮১ সালে সংখ্যা ১ হাজার ছাড়ায় এবং ১৯৯৮ সালে পৌঁছে যায় ১০ হাজারে।
এরপর ২০১২ সালে শতবর্ষীর সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়ায়। এবার সেই সংখ্যা পেরিয়ে গেল ১ লাখের সীমা।
প্রতি বছর ১৫ সেপ্টেম্বর জাপানে ‘বয়স্কদের প্রতি শ্রদ্ধা দিবস’ পালিত হয়। এ উপলক্ষে ১০০ বছরে পা দেওয়া নাগরিকদের সরকার শুভেচ্ছাপত্র ও স্মারক উপহার দিয়ে সম্মান জানায়। এ বছর এমন সম্মান পাওয়ার তালিকায় রয়েছেন ৫৪ হাজার ২৯৪ জন।
শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি দীর্ঘজীবী এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে কীভাবে টেকসই সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় রাখা যায়, সেটিও জাপানের সামনে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠছে।



