GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / খেলা / বুকায়ো সাকার ‘বড় জুতো’ পুরস্কার, ১২০ শিশুর অস্ত্রোপচারে সহায়তা

বুকায়ো সাকার ‘বড় জুতো’ পুরস্কার, ১২০ শিশুর অস্ত্রোপচারে সহায়তা

ফুটবল মাঠে গোল ও দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য পরিচিত বুকায়ো সাকা এবার মানবিক কাজের স্বীকৃতি পেয়েছেন। ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে আর্সেনালের এই ইংলিশ উইঙ্গার জিতেছেন ‘সক্রেটিস’ পুরস্কার। নাইজেরিয়ায় শিশুদের অস্ত্রোপচারে সহায়তা করার উদ্যোগের জন্যই তাঁর হাতে উঠেছে এই সম্মান।

সাকার বাবা-মায়ের জন্মভূমি নাইজেরিয়ার অসহায় শিশুদের চিকিৎসায় পাশে দাঁড়িয়েছে তাঁর এই উদ্যোগ। জার্মান দাতব্য সংস্থা ‘বিগশু’র সঙ্গে কাজ করে শিশুদের অস্ত্রোপচারের খরচ জোগাতে সহায়তা করেছেন তিনি। তাঁর সহায়তায় এ পর্যন্ত ১২০টি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। এসব অস্ত্রোপচারের মধ্যে হার্নিয়া থেকে শুরু করে ব্রেন টিউমারের মতো জটিল সমস্যার চিকিৎসাও রয়েছে।

‘বড় জুতো’ থেকে নতুন জীবনের গল্প

ফুটবলে জুতোর মাপ সামান্য এদিক-ওদিক হলেই খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়তে পারে। কিন্তু বুকায়ো সাকার ‘বড় জুতো’ রূপক অর্থে অন্য রকম। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নাইজেরিয়ার বহু শিশু পেয়েছে চিকিৎসার সুযোগ এবং নতুন করে জীবন শুরু করার সম্ভাবনা।

মাঠে ফুটবলারের বুট গোল করতে সাহায্য করে। আর সাকার এই উদ্যোগ শিশুদের সুস্থ হয়ে দাঁড়ানোর পথে সহায়তা করছে। তাঁর মানবিক কর্মকাণ্ডই তাঁকে এবারের সক্রেটিস পুরস্কারের দাবিদার করেছে।

কী এই সক্রেটিস পুরস্কার?

ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিন ও ‘পিস অ্যান্ড স্পোর্ট’ সংস্থা ২০২২ সালে সক্রেটিস পুরস্কার চালু করে। প্রয়াত ব্রাজিলীয় ফুটবল কিংবদন্তি সক্রেটিসের নামে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবিক উদ্যোগ এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার কাজে অবদান রাখা ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দেওয়াই এর উদ্দেশ্য।

সক্রেটিস নিজেও সামাজিক অবস্থান ও গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলার জন্য পরিচিত ছিলেন। নিজের খ্যাতি ও সম্পদকে সমাজের কল্যাণে কাজে লাগিয়েছিলেন তিনি।

পুরস্কারটির আগের বিজয়ীদের তালিকায় রয়েছেন সেনেগালের সাদিও মানে, ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং স্পেনের জেনি এরমোসো। ২০২২ সালে নিজের গ্রাম বাম্বালিতে হাসপাতাল ও স্কুল নির্মাণে অবদানের জন্য মানে পুরস্কার পান। ২০২৩ সালে শিশুদের শিক্ষা ও বর্ণবাদবিরোধী কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি পান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ২০২৪ সালে নিপীড়ন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থানের জন্য সম্মানিত হন জেনি এরমোসো। ২০২৫ সালে গুরুতর অসুস্থ শিশু ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কাজের জন্য স্বীকৃতি পায় লুইস এনরিকের পরিবারের ‘শানা’ ফাউন্ডেশন।

মাঠের বাইরেও সাকার অবদান

বুকায়ো সাকা দীর্ঘদিন ধরেই মাঠে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়ে আসছেন। তবে নাইজেরিয়ার শিশুদের চিকিৎসায় তাঁর সহায়তা দেখিয়েছে, ফুটবলারদের প্রভাব ও জনপ্রিয়তা মাঠের বাইরেও মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারে।

সাকার ‘বিগশু’ উদ্যোগের মাধ্যমে ১২০টি অস্ত্রোপচারে সহায়তা পাওয়ার ঘটনা সেই মানবিক অবদানেরই উদাহরণ। তাঁর এই স্বীকৃতি মনে করিয়ে দেয়, ফুটবলের সাফল্য শুধু গোল, ট্রফি কিংবা ব্যক্তিগত অর্জনে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের জীবন বদলে দেওয়ার কাজও একজন খেলোয়াড়ের পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।

Social Icons