GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / আন্তর্জাতিক / মাতারবাড়ী বন্দর দিয়ে সেভেন সিস্টার্সের সঙ্গে সংযোগ চায় জাপান

মাতারবাড়ী বন্দর দিয়ে সেভেন সিস্টার্সের সঙ্গে সংযোগ চায় জাপান

বাংলাদেশের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য—সেভেন সিস্টার্সের সঙ্গে আঞ্চলিক যোগাযোগ গড়ে তুলতে আগ্রহী জাপান। বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্য, শিল্প ও যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগের কথা উঠে এসেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য জাপান সফর সামনে রেখে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় আলোচ্যসূচি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এতে মাতারবাড়ী বন্দর এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প গুরুত্ব পেতে পারে।

মাতারবাড়ী বন্দরকে ঘিরে জাপানের পরিকল্পনা

দ্য হিন্দুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক কর্মকর্তা বলেছেন, মাতারবাড়ী বন্দর বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক শিল্পকেন্দ্রে পরিণত করার সম্ভাবনা রাখে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের আর্থিক সহায়তা চাইতে পারে বাংলাদেশ। এর মধ্যে মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যিক অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টিও রয়েছে।

প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনার অংশ হিসেবে গত আগস্টে মাতারবাড়ী পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সেভেন সিস্টার্সের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য

জাপানের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে একটি শিল্প ও যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা যেতে পারে। এর মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্য বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।

এ উদ্যোগের সম্ভাব্য সুফল ভুটান, নেপাল ও মিয়ানমারও পেতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়লে পণ্য পরিবহন, শিল্প স্থাপন এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হলে কী সুবিধা হবে?

জাপানের অর্থায়নে নির্মাণাধীন মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হলে বড় জাহাজ থেকে সরাসরি পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা বাড়তে পারে বাংলাদেশের। বর্তমানে বড় জাহাজের মাধ্যমে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কার কলম্বো এবং মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বন্দরের ওপর নির্ভর করতে হয়।

মাতারবাড়ী বন্দর কার্যকরভাবে চালু হলে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থা ও শিল্প উৎপাদনের ক্ষেত্রেও বন্দরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ব্যাংকককে উদাহরণ হিসেবে দেখছে জাপান

আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকককে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক করিডরকে উদাহরণ হিসেবে দেখছে জাপান।

দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে উদ্ধৃত এক জাপানি কূটনীতিকের মতে, ব্যাংকককে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সাউদার্ন ইকোনমিক করিডর কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের সঙ্গে যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। মাতারবাড়ীকেও একই ধরনের আঞ্চলিক উন্নয়নের কেন্দ্রে পরিণত করার সম্ভাবনা দেখছে টোকিও।

বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ও ভারতের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শেখ হাসিনার শাসনামলে দুই দেশের সম্পর্ক তুলনামূলক ভালো থাকায় কয়েকটি আঞ্চলিক যোগাযোগ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। সে সময় ফেনী নদীর ওপর মৈত্রী সেতু নির্মিত হয়, যা ভারতের ত্রিপুরার সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগের সম্ভাবনা তৈরি করে। তবে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে সেতুটি এখনো চালু হয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

জাপানের কর্মকর্তাদের ধারণা, বাংলাদেশ থেকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো গেলে মাতারবাড়ী বন্দরের অর্থনৈতিক গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে।

তারেক রহমানের জাপান সফরে উঠতে পারে মাতারবাড়ীর প্রসঙ্গ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে জাপান যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। তবে সফরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি বলে মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্য হিন্দুর তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য সফরের আলোচ্যসূচিতে মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগও রয়েছে। সফর ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ।

সব মিলিয়ে, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে জাপানের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামো, আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে পরিকল্পনার চূড়ান্ত রূপ, অর্থায়ন এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সহযোগিতা সম্পর্কে আরও আনুষ্ঠানিক তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।

তথ্যসূত্র: দ্য হিন্দু, যুগান্তর ডেস্ক।

Social Icons