GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জাতীয় / যেসব খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন-লাইসেন্স বাধ্যতামূলক

যেসব খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন-লাইসেন্স বাধ্যতামূলক

দেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং খাদ্য ব্যবসায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্ধারিত শ্রেণির ব্যবসার জন্য নিবন্ধন ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। নতুন বিধান অনুযায়ী, রাস্তার পাশে পিঠা, পুরি ও পেঁয়াজু বিক্রেতাসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্য ব্যবসায়ীকেও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নিবন্ধন নিতে হবে।

গত ১৬ জুলাই সরকারি গেজেটে ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ প্রকাশিত হয়। এ বিধিমালার আওতায় আগামী ১ নভেম্বর থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় নিবন্ধন বা লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছে।

ফুটপাতের খাবারের দোকানও থাকছে আওতায়

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভ্রাম্যমাণ ও অস্থায়ী খাবারের দোকান থেকে শুরু করে ছোট-বড় রেস্তোরাঁ, খাদ্য আমদানিকারক এবং বড় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসার ধরন অনুযায়ী নিবন্ধন বা লাইসেন্স নিতে হবে।

রেস্তোরাঁ, বেকারি, ফলের রসের দোকান, পেস্ট্রি শপ ও ক্যাটারিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের আওতায় রাখা হয়েছে। একইভাবে প্যাকেটজাত বা মোড়কজাত খাবার উৎপাদনকারী, মিষ্টির দোকান, দুগ্ধজাত পণ্য প্রস্তুতকারী এবং নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য আমদানিকারকদেরও নিবন্ধন নিতে হবে।

ফুটপাত বা রাস্তার পাশে পিঠা, পুরি, পেঁয়াজুসহ বিভিন্ন খাবার বিক্রি করেন—এমন ব্যবসায়ীদেরও নতুন বিধিমালার প্রযোজ্য শর্ত অনুসরণ করতে হবে।

কোন কোন খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন প্রয়োজন?

প্রবিধানমালায় নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও খাদ্য স্থাপনার ক্ষেত্রে নিবন্ধনের বিধান রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • রেস্তোরাঁ, বেকারি, পেস্ট্রি শপ ও ক্যাটারিং সেবা
  • প্যাকেটজাত খাবার উৎপাদন এবং মিষ্টি ও দুগ্ধজাত পণ্য প্রস্তুত
  • পাইকারি মুদি খাদ্য ব্যবসা
  • কাঁচা ও তাজা খাদ্য আমদানি
  • খাদ্য সংরক্ষণাগার ও কোল্ড স্টোরেজ
  • ভোজ্যতেল ও ভোজ্য লবণ উৎপাদন
  • পুষ্টিসমৃদ্ধ বা ফোর্টিফায়েড খাদ্য
  • জৈব খাদ্য, প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্য
  • বিশেষ খাদ্য এবং খাদ্য সংযোজন দ্রব্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, আমদানি, রপ্তানি ও বিপণনসংশ্লিষ্ট নির্ধারিত ব্যবসা

তবে সব ধরনের খাদ্য ব্যবসার জন্য একই অনুমোদন প্রযোজ্য নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যবসা ও পণ্যের শ্রেণি অনুযায়ী নিবন্ধন অথবা লাইসেন্স নিতে হবে।

কোন ক্ষেত্রে লাইসেন্স নিতে হবে?

প্রবিধানমালায় চার শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক লাইসেন্স, প্রিমিসেস লাইসেন্স, উৎপাদিত ও আমদানিকৃত পণ্যের লাইসেন্স এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত পণ্যের নিবন্ধনের বিধান রাখা হয়েছে।

বিশেষায়িত খাদ্যপণ্য, স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য এবং নির্দিষ্ট ধরনের বিশেষ পথ্যসহ সংশ্লিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য লাইসেন্সের শর্ত পূরণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পণ্যের ধরন ও ব্যবসার কার্যক্রম অনুযায়ী অনুমোদনের প্রয়োজন নির্ধারিত হবে।

নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ কত দিন?

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর। মেয়াদ শেষ হলে তা নবায়ন করতে হবে।

প্রচলিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার প্রথমবার নিবন্ধন বিনামূল্যে করার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, নির্দিষ্ট বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে লাইসেন্সের জন্য প্রযোজ্য ফি দিতে হবে।

কোথায় আবেদন করা যাবে?

প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়ে নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আবেদন করা যাবে। পাশাপাশি ধাপে ধাপে শতভাগ অনলাইন আবেদনব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের মতে, নতুন এই ব্যবস্থা খাদ্য ব্যবসার নিবন্ধন ও লাইসেন্স কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াবে। একই সঙ্গে খাদ্যপণ্যের উৎপাদন ও বিপণনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।

তাই ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া বিধিমালা অনুযায়ী নিজের ব্যবসার জন্য কোন ধরনের নিবন্ধন বা লাইসেন্স প্রয়োজন, তা সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের আগেই যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

Social Icons