লোডশেডিংয়ের সময় ফ্রিজের খাবার নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তবে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সব খাবার নষ্ট হয় না।
কিছু সতর্কতা মেনে চললে খাবার কিছু সময় নিরাপদ রাখা সম্ভব।
বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর ফ্রিজের দরজা কম খোলা উচিত।
সাধারণভাবে বন্ধ ফ্রিজ প্রায় ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ঠান্ডা রাখতে পারে।
বারবার দরজা খুললে ভেতরের ঠান্ডা বাতাস বের হয়ে যায়।
তাই প্রয়োজনীয় খাবার একবারে বের করে নেওয়া ভালো।
ফ্রিজারের খাবারগুলো একসঙ্গে গুছিয়ে রাখা উচিত।
এতে খাবারগুলো পরস্পরের ঠান্ডা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
বিদ্যুৎ দীর্ঘ সময় না থাকলে খাবারের অগ্রাধিকার ঠিক করা জরুরি।
দুধ দ্রুত নষ্ট হতে পারে।
কাঁচা মাংস ও মাছও দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।
রান্না করা খাবারও দ্রুত নষ্ট হতে পারে।
কাটা ফলও দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তাই এসব খাবার আগে খাওয়া বা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখা উচিত।
আচার ও জ্যাম তুলনামূলক কম পচনশীল খাবার।
মাখনও তুলনামূলক কম পচনশীল।
কিছু ফল ও সবজিও পরে খাওয়া যেতে পারে।
খাবার নষ্ট হয়েছে কি না শুধু গন্ধ দেখে বোঝা উচিত নয়।
রং বা স্বাভাবিক দেখালেও খাবারে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে।
সন্দেহ হলে খাবার ফেলে দেওয়াই নিরাপদ।
লোডশেডিংয়ের জন্য আগে থেকেই পানিভর্তি বোতল বরফ করে রাখা যেতে পারে।
বিদ্যুৎ চলে গেলে বরফের বোতল ফ্রিজের নরমাল চেম্বারে রাখা যায়।
এতে ফ্রিজের ভেতর ঠান্ডা পরিবেশ ধরে রাখতে সাহায্য করবে।
আইস বক্স বা কুলারও ব্যবহার করা যেতে পারে।
এতে দ্রুত নষ্ট হওয়া খাবার ঠান্ডা রাখা সম্ভব।
তবে কুলারের তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।
বিদ্যুৎ দীর্ঘ সময় না থাকার আশঙ্কা থাকলে জেল প্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে।
ড্রাই আইসও খাবার ঠান্ডা রাখতে ব্যবহার করা যায়।
বিদ্যুৎ ফিরে আসার পর প্রতিটি খাবার পরীক্ষা করা উচিত।
মাছ বা মাংসের বরফ পুরোপুরি গলে গেলে সতর্ক হতে হবে।
দুর্গন্ধ বা পিচ্ছিল ভাব দেখা দিলে তা খাওয়া উচিত নয়।
দুগ্ধজাত খাবার বা রান্না করা খাবার দুই ঘণ্টার বেশি ৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ওপরে থাকলে ফেলে দেওয়া নিরাপদ।
খাবার ভালো আছে কি না দেখতে চেখে দেখা উচিত নয়।
খাদ্য নিরাপত্তায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো সন্দেহ হলে খাবার ফেলে দেওয়া।
সঠিক পরিকল্পনা ও সচেতনতা খাবারের অপচয় কমাতে সাহায্য করতে পারে।

