GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / আন্তর্জাতিক / ইসরাইলি কনস্যুলেট বন্ধের সিদ্ধান্তে লন্ডনের পালটা হুঁশিয়ারি

ইসরাইলি কনস্যুলেট বন্ধের সিদ্ধান্তে লন্ডনের পালটা হুঁশিয়ারি

ইসরাইল অধিকৃত কুদসে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল না করলে ইসরাইলের ২৭ কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বহিষ্কারের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাজ্য। কনস্যুলেটটি বন্ধ হলে লন্ডন পালটা কূটনৈতিক ব্যবস্থা নিতে পারে বলে ইসরাইলকে সতর্ক করা হয়েছে।

প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সোমবার ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত সাইমন ওয়াল্টার্স ইসরাইলি কর্মকর্তাদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেন। তবে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করেনি। একই সঙ্গে তারা খবরটিও অস্বীকার করেনি।

ইসরাইলি সিদ্ধান্তের ফলে কূটনৈতিক মর্যাদা হারানোর আশঙ্কায় থাকা প্রতিটি ব্রিটিশ কর্মীর বিপরীতে একজন ইসরাইলি কূটনীতিককে বহিষ্কারের প্রস্তুতি নিচ্ছে লন্ডন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

কেন কনস্যুলেট বন্ধ করছে ইসরাইল?

ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সা’আর বৃহস্পতিবারের মধ্যে কুদসে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে মিশনটির কর্মীদের কূটনৈতিক স্বীকৃতি বা পরিচয়পত্র বাতিল করা হয়েছে।

শেখ জাররাহ এলাকায় অবস্থিত এই কনস্যুলেটটি তেল আবিবে থাকা ব্রিটিশ দূতাবাস থেকে পৃথকভাবে কাজ করে। পূর্ব কুদস, অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক ও কনস্যুলার বিষয় দেখাশোনা করে এই মিশন।

ব্রিটেনের বিরুদ্ধে ইসরাইলের এই পদক্ষেপকে পালটা ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত মাসে অধিকৃত এলাকায় ইসরাইলি বসতি থেকে পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ব্রিটেন।

ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে ফ্রান্স ও কানাডার সঙ্গেও ব্রিটেন ওই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। অধিকৃত এলাকায় ইসরাইলের এক হাজারের বেশি নতুন বসতি স্থাপনের পরিকল্পনার বিরুদ্ধেও পশ্চিমা দেশগুলো আপত্তি জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি বসতিগুলো অবৈধ বলে বিবেচিত হয়।

ইসরাইলের পালটা পদক্ষেপ

ব্রিটেনের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সা’আর। তিনি ব্রিটিশ পদক্ষেপকে ‘নৈতিকভাবে বিকৃত’ বলে মন্তব্য করেছেন।

এ ছাড়া লেবার সরকারের বিরুদ্ধে শত্রুতা ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের অভিযোগও তুলেছেন তিনি।

ইসরাইলের পালটা পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে গাজার একটি সমন্বয় কেন্দ্র থেকে ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের বহিষ্কার। পাশাপাশি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্রিটিশ প্রশিক্ষণ দেওয়ার কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।

সাবেক লেবার নেতা জেরেমি করবিনসহ ১২ জন ব্রিটিশ নাগরিকের ইসরাইলে প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

সমঝোতার চেষ্টা ব্যর্থ

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ সরকার কনস্যুলেটটি চালু রাখার চেষ্টা করেছিল। এ লক্ষ্যে ব্রিটেনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জোনাথন পাওয়েল গত সপ্তাহে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই অধিকৃত অঞ্চলগুলো সফর করেন।

তবে ওই সফরে কোনো সমঝোতা হয়নি। ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবারই কনস্যুলেট বন্ধ করা হবে।

ব্রিটেনের সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ডমিনিক গ্রিভ অবশ্য দাবি করেছেন, কনস্যুলেট বন্ধ করার আইনি অধিকার ইসরাইলি সরকারের নেই।

কনস্যুলেট বন্ধ হলে কারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে?

পূর্ব কুদসকে জাতিসংঘ ও যুক্তরাজ্য উভয়েই অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে। সেখানে ব্রিটিশ কনস্যুলেট পরিচালনা করার অর্থ ওই এলাকার ওপর ইসরাইলের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করা নয়।

ডমিনিক গ্রিভের মতে, কনস্যুলেট বন্ধ হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন ফিলিস্তিনিরা। কারণ এতে কনস্যুলার সেবা ব্যাহত হবে। একই সঙ্গে পশ্চিম তীর ও গাজায় ব্রিটিশ সহায়তা কার্যক্রমের তদারকি এবং তথ্য সংগ্রহও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

অন্যদিকে ইসরাইলের ২৭ কূটনীতিককে বহিষ্কার করা হলে লন্ডনে থাকা ইসরাইলি দূতাবাসের কার্যক্রমেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। দূতাবাসটিতে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনো রাষ্ট্রদূত নেই।

ফলে কুদসে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের সিদ্ধান্ত এখন ইসরাইল ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।

Social Icons