ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইরানের আহমাদিনেজাদকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্ক টাইমসের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কাহিনি যতই রোমাঞ্চকর শোনাক, বাস্তবতার সঙ্গে মিল কম। প্রতিবেদনে মোসাদের ‘অ্যাসেট’ বানানোর যে দাবি তোলা হয়েছে, সেটি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
ক্ষমতার কাঠামোই প্রথম বাধা

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র-পরবর্তী ইরানের নেতা হিসেবে আহমাদিনেজাদকে বসানোর লক্ষ্যে মোসাদ তাঁকে বছরের পর বছর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে। কিন্তু ইরানের ভেতরের ক্ষমতাকাঠামো যারা বোঝেন, তাদের বক্তব্য—প্রেসিডেন্ট নন, বরং সর্বোচ্চ নেতা এবং ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ভূমিকা নির্ধারণ করে বড় নীতিগুলো।
তাই যদি সত্যিই বড় ধরনের গোপন প্রভাব খাটানোর উদ্দেশ্য থাকত, তাহলে কল্পিত কাহিনির ‘কেন আহমাদিনেজাদ’ অংশটি স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের মুখে পড়ে।
কাউকে ‘রিক্রুট’ করতে চাইলে কার পেছনে যেতে হয়
প্রতিবেদনের বক্তব্যে মোসাদের উদ্দেশ্যকে বলা হয়েছে উচ্চপর্যায়ের কাউকে নিজেদের দলে আনার চেষ্টা। কিন্তু একই সঙ্গে যুক্তি তোলা হয়েছে—চেষ্টা হলে সেটি হওয়া উচিত ছিল সর্বোচ্চ নেতার ঘনিষ্ঠ সহকারী, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের কোনো সদস্য বা আইআরজিসির শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতো আরো প্রভাবশালী জায়গায়।
অর্থাৎ ‘টার্গেট’ নির্বাচনই প্রতিবেদনের দাবিকে দুর্বল করে। কারণ ক্ষমতার আসল চাবিকাঠি যে জায়গায় থাকে, সেখানে না গিয়ে আলোচিত ব্যক্তিকে ঘিরে কল্পিত পরিকল্পনা দাঁড় করানোটা যুক্তিসংগত হয় না বলেই মনে করেন বিশ্লেষকরা।
ঘটনাক্রমের রোমাঞ্চ বনাম বাস্তবতা
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বুদাপেস্টে গোপন বৈঠক, মোসাদের তৎকালীন প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ, গোপন লেনদেন এবং তেহরানে বোমা হামলার পর আহমাদিনেজাদকে নাটকীয়ভাবে নিরাপদে বের করে আনার প্রসঙ্গ আছে। তবে এসব পর্বের মধ্যে নানা অসংগতি আছে—এ কথাই জোর দিয়ে বলা হচ্ছে।
বিশেষ করে ‘তিনি পালিয়ে গিয়েছিলেন’ নাকি ‘তাঁকে চলে যেতে দেওয়া হয়েছিল’—এ ধরনের অনিশ্চয়তা পুরো কাহিনিকে আরো কম বিশ্বাসযোগ্য করে।
বুদাপেস্টে আমন্ত্রণের গল্পও প্রশ্নবিদ্ধ
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একজন হাঙ্গেরিয়ান সরকারি কর্মকর্তা বুদাপেস্টের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টরকে অনুরোধ করেন আহমাদিনেজাদকে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক এক সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানাতে, যাতে ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের সঙ্গে গোপন বৈঠকের বিষয়টি আড়াল থাকে। এই ধরনের বিন্যাস বাস্তব গোয়েন্দা কর্মকাণ্ডের ধরন সম্পর্কে যারা ধারণা রাখেন, তাদের কাছে স্বাভাবিক মনে হয় না।
এ ছাড়া ইসরায়েলের সাবেক গোয়েন্দা-সংক্রান্ত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মধ্যেও ঘটনাক্রম নিয়ে সমালোচনা এসেছে—যেখানে বলা হয়েছে, কাহিনিতে সময়, প্রেক্ষাপট ও কাজের ধরন মিলিয়ে প্রশ্ন থাকে।
প্রবাসী পাঠকের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির খবর দেখেন অনেক প্রবাসী। এমন গল্পে তথ্য যাচাই না হলে ভুল ধারণা জন্মায়—যা চাকরি, নিরাপত্তা ও ভিসা-সংক্রান্ত বাস্তব সিদ্ধান্ত পর্যন্ত প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ রাজনীতির কাঁটাতারের মতোই গুজবও দ্রুত ছড়ায়। তাই ইরানের আহমাদিনেজাদকে ঘিরে যে কাহিনি বলা হয়েছে, সেটি গ্রহণের আগে প্রেক্ষাপট ও ক্ষমতার বাস্তবতাকে মিলিয়ে দেখা জরুরি।
সংক্ষেপে প্রশ্ন—উত্তর
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে কোন দাবিটি বিতর্কিত?
আহমাদিনেজাদকে মোসাদের ‘অ্যাসেট’ বানিয়ে ইরানের নেতা হিসেবে বসানোর উদ্দেশ্যের কাহিনি।
কেন বিশ্বাসযোগ্যতা কম বলা হচ্ছে?
ইরানের ক্ষমতাকাঠামো এবং ঘটনাক্রমে অসংগতি থাকার যুক্তিতে।
প্রবাসীদের কী সতর্কতা দরকার?
রাজনৈতিক প্রতিবেদনের আগে প্রেক্ষাপট যাচাই করে তথ্য গ্রহণ করা।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









