বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাই সামনে এল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনারের সঙ্গে আলোচনায়। পলাতক শেখ হাসিনার ৫ আগস্ট প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য প্রসঙ্গেই উদ্বেগ জানালেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা।
তেজগাঁওয়ে বৈঠকে কোন প্রসঙ্গ উঠল

সোমবার বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক এবং পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
৫ আগস্ট বক্তব্যের বিষয়টি কীভাবে এল
আলোচনায় উঠে আসে—পলাতক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখতে পারেন; এমন খবর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হাইকমিশনারকে জানান, শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ব্যক্তি যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে।
সম্পর্ককে ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ করতে পারে বলে সতর্কতা
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম দুই দেশের সম্পর্কে যে ইতিবাচক অগ্রগতি তৈরি হচ্ছে সেটিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন এবং বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া ও সচেষ্ট থাকার আশ্বাস পাওয়ার কথা জানান।
গঠনমূলক সংলাপে এগোনোর বার্তা
বৈঠকে দু’পক্ষই নিয়মিত সংলাপ এবং গঠনমূলক সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেয়। তাদের বক্তব্যে ছিল, পারস্পরিক আস্থা ও আলোচনার মাধ্যমেই সব বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান সম্ভব।
প্রবাসী পাঠকদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ? বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক স্থিতিশীল থাকলে সীমান্ত, নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি—সব ক্ষেত্রেই প্রবাসীদের দৈনন্দিন বাস্তবতা অপেক্ষাকৃত স্বস্তিদায়ক থাকে। রাজনৈতিক টানাপোড়েন বাড়লে সেটার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে কর্মসংস্থান, ভ্রমণ ও নথিপত্র সংশ্লিষ্ট উদ্বেগেও।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
৫ আগস্ট বক্তব্যের বিষয়টি কেন আলোচনায় এল?
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি তথ্য নিয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে।
বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে কী চেয়েছে?
ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির মতো কর্মকাণ্ড ঠেকাতে সহযোগিতা।
বৈঠকের মূল বার্তা কী?
সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া এবং টেকসই সমাধান খোঁজা।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









