চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বিদেশ সফর সাধারণত কঠোর নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় ঘেরা থাকে। তবে তার ব্যক্তিগত খাবারের পছন্দের ক্ষেত্রে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। নথিভুক্ত বিভিন্ন ঘটনার তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ ও ঘরোয়া খাবারের প্রতি তার আগ্রহের বেশ কিছু উদাহরণ রয়েছে।
মাত্র ৩০০ টাকার খাবার
শি জিনপিংয়ের খাবারের পছন্দ নিয়ে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ঘটে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে।
সেদিন বেইজিংয়ের একটি কিংফেং স্টিমড বান রেস্তোরাঁয় গিয়ে তিনি ছয়টি শূকরের মাংস ও পেঁয়াজপাতা দেওয়া বান, এক বাটি রান্না করা কলিজা এবং এক প্লেট সরিষা শাকের তরকারি অর্ডার করেন।
পুরো খাবারের দাম ছিল ২১ ইউয়ান, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০০ টাকার সমান। প্রতিবেদনে বলা হয়, শি লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেই খাবারের দাম পরিশোধ করেন এবং অন্যদের সঙ্গে একই টেবিলে বসে খাবার খান।
মদ পরিবেশনে আপত্তি
২০১২ সালে হেবেই প্রদেশের ফুপিং কাউন্টি সফরের সময় শি জিনপিংয়ের নৈশভোজের তালিকাতেও ছিল সাধারণ খাবার। সেখানে ছিল বাদামি সসে রান্না করা মুরগি, শূকরের পেটের মাংস দিয়ে রসুনের কুঁড়ি ভাজি এবং গারল্যান্ড ক্রিস্যান্থেমাম শাক।
তবে ওই খাবারের সময় তিনি কর্মীদের মদ পরিবেশন না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে পিপলস ডেইলির তথ্য উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
পুরোনো দিনের খাবারের প্রতি টান
শি জিনপিংয়ের খাবারের পছন্দের সঙ্গে তার জীবনের শুরুর সময়ের স্মৃতিও জড়িত। শানসি প্রদেশের লিয়াংজিয়াহে গ্রামে তরুণ বয়সে বসবাস ও কাজ করেছিলেন তিনি।
২০১৫ সালে সেখানে ফিরে গিয়ে তিনি আচার, ভাজা কেক, মুরগির মাংস, খাসির মাংস ও কুমড়া খান বলে সিনহুয়ার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শানসির খাবার তার রাজনৈতিক অতিথিদের জন্য আয়োজিত ভোজেও দেখা গেছে। ২০১৪ সালে তৎকালীন কুওমিনতাং চেয়ারম্যান লিয়েন চ্যানের সঙ্গে বৈঠকের সময় পরিবেশিত খাবারের মধ্যে ছিল খাসির মাংসের পাই, খাসির মাংসের স্যুপ ও নুডলস।
টমেটো দিয়ে ভাজা ডিমও ছিল তালিকায়
২০১৪ সালে চীনা নববর্ষের আগে ইনার মঙ্গোলিয়ায় সেনাসদস্যদের সঙ্গে খাবার খান শি জিনপিং। পিপলস ডেইলির তথ্য অনুযায়ী, সেদিন তার খাবারের তালিকায় ছিল টমেটো দিয়ে ভাজা ডিম।
কী ধরনের খাবার পছন্দ করেন?
নথিভুক্ত বিভিন্ন খাবারের তালিকা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে স্টিমড বান, নুডলস এবং শানসির ঘরোয়া রান্নার বেশ কিছু উদাহরণ পাওয়া যায়।
অন্যদিকে, বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের জন্য আয়োজিত রাষ্ট্রীয় ভোজের খাবারের ধরন আলাদা। এসব আয়োজন মূলত কূটনৈতিক এবং সেখানে চীনের বিভিন্ন অঞ্চলের বিশেষ খাবার ও উপকরণ তুলে ধরা হয়।
ফলে নথিভুক্ত ব্যক্তিগত খাবারের উদাহরণগুলোতে সাধারণ ও পরিচিত খাবারের উপস্থিতিই বেশি চোখে পড়ে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি, পিপলস ডেইলি, সিনহুয়া ও সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের তথ্য।








