GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / আন্তর্জাতিক / পারমাণবিক পরীক্ষার পর উত্তর কোরিয়ায় কেন বাড়ল ভূমিকম্প

পারমাণবিক পরীক্ষার পর উত্তর কোরিয়ায় কেন বাড়ল ভূমিকম্প

পারমাণবিক পরীক্ষার পর উত্তর কোরিয়ায় কেন বাড়ল ভূমিকম্প

উত্তর কোরিয়ার প্রধান পারমাণবিক পরীক্ষা কেন্দ্র মাউন্ট মানতাপের আশপাশে পারমাণবিক পরীক্ষার পর দীর্ঘ সময় ধরে ভূমিকম্পের প্রবণতা বেড়েছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষকেরা ২০০৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ভূকম্পনসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ওই এলাকায় ১ হাজার ৩৯৯টি ছোট ভূমিকম্প শনাক্ত করেছেন। গবেষণাটি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে Science জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

তবে গবেষণাটি সরাসরি বলছে না যে প্রতিটি ভূমিকম্প পারমাণবিক বিস্ফোরণের কারণে হয়েছে। গবেষকদের মূল ব্যাখ্যা হলো, ২০১৭ সালের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক পরীক্ষাটি ভূগর্ভস্থ পুরোনো চ্যুতিগুলোর ওপর চাপের পরিবর্তন ঘটিয়ে সেগুলো পুনরায় সক্রিয় করতে পারে

১৭ বছরে শনাক্ত ১,৩৯৯ ভূমিকম্প

গবেষক দল চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ায় স্থাপিত ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ২০০৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে। মাউন্ট মানতাপ থেকে প্রায় ৮০ থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরের স্টেশনগুলোর তথ্যও এতে ব্যবহার করা হয়।

ক্ষুদ্র ও সাধারণ পর্যবেক্ষণে ধরা না পড়া কম্পন শনাক্ত করতে গবেষকেরা matched-filter detection পদ্ধতি ব্যবহার করেন। এর মাধ্যমে মোট ১ হাজার ৩৯৯টি স্থানীয় ভূমিকম্প শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে ৯৫৫টির অবস্থান তুলনামূলকভাবে নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়েছে।

২০১৭ সালের পর বদলে যায় ভূমিকম্পের প্রবণতা

উত্তর কোরিয়া ২০০৬ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে মাউন্ট মানতাপের পুংগেরি এলাকায় ছয়টি ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়। গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৩ সালে তৃতীয় পারমাণবিক পরীক্ষার পর ওই এলাকায় প্রথম ভূমিকম্প শনাক্ত হয়। তবে পরবর্তী কয়েক বছর ভূকম্পন ছিল তুলনামূলকভাবে কম।

পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে ২০১৭ সালের ষষ্ঠ ও সবচেয়ে বড় পারমাণবিক পরীক্ষার পর। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের প্রায় তিন সপ্তাহ পর থেকে ভূমিকম্পের কার্যক্রম বাড়তে শুরু করে এবং তা ২০২৫ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। শুধু সংখ্যাই নয়, সময়ের সঙ্গে এসব ভূমিকম্পের সামগ্রিক শক্তিও বাড়ার প্রবণতা দেখা গেছে।

২০১৭ সালের বিস্ফোরণের সময় প্রায় ৬ দশমিক ৩ মাত্রার একটি ভূকম্পন রেকর্ড হয়েছিল। পরে ভূগর্ভস্থ বিস্ফোরণস্থলের গহ্বর ধসের সঙ্গে সম্পর্কিত আরেকটি কম্পনও শনাক্ত করা হয়।

পুরোনো চ্যুতি সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা

গবেষকদের মতে, পারমাণবিক বিস্ফোরণের ফলে মাউন্ট মানতাপের অগভীর ভূস্তরে ব্যাপক ক্ষতি ও চাপের পরিবর্তন ঘটতে পারে। এর ফলে আগে থেকেই ভাঙনের কাছাকাছি থাকা কিছু ভূগর্ভস্থ চ্যুতি বা fault পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পায়।

৯৫৫টি ভূমিকম্পের অবস্থান বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখেছেন, অনেকগুলো কম্পন এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে না থেকে প্রায় সমান্তরাল দুটি ভূগর্ভস্থ কাঠামোর বরাবর ঘটেছে। এটি ভূমিকম্পগুলোর সঙ্গে নির্দিষ্ট চ্যুতির সম্পর্ক থাকার সম্ভাবনাকে জোরালো করে।

ভূগর্ভস্থ পানির চাপও কি ভূমিকা রেখেছে?

গবেষকদের আরেকটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, বিস্ফোরণের ফলে ভূগর্ভে নতুন ফাটল তৈরি হয়ে সেখানে পানি প্রবেশের পথ তৈরি হতে পারে। পানির চাপ বাড়লে আশপাশের শিলাস্তরের ওপর চাপের ভারসাম্য পরিবর্তিত হতে পারে এবং চ্যুতিগুলো সরে গিয়ে ছোট ভূমিকম্প সৃষ্টি করতে পারে।

তবে এটি এখনো একটি সম্ভাব্য প্রক্রিয়া, সরাসরি প্রমাণিত কারণ নয়। গবেষকেরা নিজেরাও ভূগর্ভস্থ পানির চাপই এসব ভূমিকম্পের নির্দিষ্ট কারণ, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি।

কেন গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ

সাধারণত ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক বিস্ফোরণের পর সৃষ্ট ক্ষুদ্র ভূমিকম্পের কার্যক্রম কিছু সময়ের মধ্যে কমে যাওয়ার কথা। মাউন্ট মানতাপের ক্ষেত্রে তার বিপরীত প্রবণতা দেখা গেছে। ২০১৭ সালের পরীক্ষার পরও বছরের পর বছর ভূকম্পন বাড়তে থাকা বিষয়টিকে গবেষকেরা অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন।

গবেষণাটি ইঙ্গিত করছে, ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক বিস্ফোরণের ভূতাত্ত্বিক প্রভাব বিস্ফোরণের সময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। এর প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে ভূগর্ভস্থ চ্যুতির আচরণে পরিবর্তন আনতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে পুরোনো পারমাণবিক পরীক্ষা কেন্দ্রের আশপাশের প্রাকৃতিক ভূমিকম্প এবং বিস্ফোরণ-সম্পর্কিত ভূকম্পন আলাদা করে শনাক্ত করাও আরও জটিল হতে পারে।

Social Icons